ঢাকা ০৫:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ
চৌদ্দগ্রামে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে শায়েখ আহমেদ আলী মোল্লা জয়পুরহাটে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে এইচএসসি পরীক্ষায় ৯ কলেজে পাস করেননি কোনো শিক্ষার্থী বগুড়ার পাঁচ কলেজে সবাই ফেল সান্তাহারে নতুন কুড়ি স্পোর্টসের খেলোয়াড় বাছাই শুরু!! পেশাদারিত্ব ও মানবিক আচরণে ‘জনগণের পুলিশ’ গড়ার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দূর্গাপুরে রক্তযোদ্ধা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফ্রী-ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইন ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ধানের শীষের ঝড়, ১ লাখের বেশি ভোটে এগিয়ে ফয়সল আমীন পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে ‘জনগণের পুলিশ’ গড়ে তোলার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবশেষে ধরা পড়লেন দক্ষিণের ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’ চম্পা, আমতলীতে স্বস্তির হাওয়া

দীর্ঘ ৬ বছরেও বদলায়নি চরের বিদ্যাপীঠের ভাগ্য

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৮:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫৫ বার পড়া হয়েছে

 

আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং

নদীভাঙনে জমি ও পুরোনো ভিটা তলিয়ে যাওয়ায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বিদ্যালয়টি; কথা ছিল সেখানে গড়ে উঠবে শিক্ষার এক অনুকূল পরিবেশ। তবে দীর্ঘ ছয় বছর পার হয়ে গেলেও বদলায়নি চরের এই বিদ্যাপীঠের ভাগ্য। নিচু মাঠ ভরাট না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই জমে যায় থকথকে কাদা-পানি, আর সেই সীমাহীন ভোগান্তিকে সঙ্গী করে প্রতিদিন কাদা মাড়িয়ে পাঠ নিতে বাধ্য হচ্ছে সাড়ে ৩০০ খুদে শিক্ষার্থী।

কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নের ‘মগড়াকুড়া আকন্দপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ ঘুরে অবহেলার এ চিত্র ফুটে উঠেছে। ২০২০ সালে ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙনে মূল বিদ্যালয় ভবনটি বিলীন হয়ে গেলে দক্ষিণ খাউরিয়ার চরের একটি নিচু ফসলি জমিতে তড়িঘড়ি করে স্থানান্তর করা হয় এটি। সেই সময় সাময়িকভাবে দুটি টিনশেড ঘর তুলে কোনোমতে কার্যক্রম শুরু হলেও দীর্ঘ অর্ধযুগ পেরিয়ে গেলেও মাঠ ও আশপাশের নিচু জমি ভরাটের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বর্তমানে পুরো প্রাঙ্গণ নিচু থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় কাদা-পানি ঠেলে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীদের জামাকাপড় ও বই-খাতা ভিজে নষ্ট হচ্ছে।

মগড়াকুড়া আকন্দপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোঃ মোস্তাফিজার রহমান ও চতুর্থ শ্রেণির মোছাঃ সালমা খাতুন তাদের এই কষ্টের কথা জানিয়ে বলে যে, মাঠ কাদা হয়ে থাকায় তারা স্কুলে এসে খেলাধুলা পর্যন্ত করতে পারে না এবং দীর্ঘদিন ধরে এমন দুরবস্থা চললেও কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।

শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের দুর্ভোগের পাশাপাশি বিদ্যালয়টিতে দেখা দিয়েছে তীব্র অবকাঠামোগত ও শ্রেণিকক্ষ সংকট। স্থানান্তরের সময় নির্মিত টিনশেড ঘর দুটির একটি ইতোমধ্যে জরাজীর্ণ হয়ে পুরোপুরি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়েছে। অন্য টিনশেডের ছয়টি কক্ষের একটি দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় বাকি মাত্র পাঁচটি কক্ষে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত গাদাগাদি করে ক্লাস চালাতে হচ্ছে। এরমধ্যে একই চত্বরে ব্র্যাক পরিচালিত ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের বিকল্প পাঠদান কার্যক্রম চলায় শ্রেণিকক্ষ সংকট আরও তীব্র রূপ ধারণ করেছে।

মগড়াকুড়া আকন্দপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, দুর্গম চরাঞ্চলের সাড়ে ৩০০ শিক্ষার্থীর স্বাভাবিক পাঠদান নিশ্চিত করতে মাঠ ভরাট, পানি নিষ্কাশন ও নতুন ভবনের আবেদন জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন।

কথা হলে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘মাঠ ভরাট ও পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী সমাধানের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।’

চিলমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান জানান, বিষয়টি চিলমারী উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে এবং সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া ‘প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি-৫’ (PEDP-5) চালু হলে বিদ্যালয়টির জন্য নতুন একটি বহুতল ভবন নির্মাণের প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন জানিয়ে দ্রুততম সময়ে সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

শেয়ার করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

দীর্ঘ ৬ বছরেও বদলায়নি চরের বিদ্যাপীঠের ভাগ্য

আপডেট সময় : ০৩:৪৮:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং

নদীভাঙনে জমি ও পুরোনো ভিটা তলিয়ে যাওয়ায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বিদ্যালয়টি; কথা ছিল সেখানে গড়ে উঠবে শিক্ষার এক অনুকূল পরিবেশ। তবে দীর্ঘ ছয় বছর পার হয়ে গেলেও বদলায়নি চরের এই বিদ্যাপীঠের ভাগ্য। নিচু মাঠ ভরাট না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই জমে যায় থকথকে কাদা-পানি, আর সেই সীমাহীন ভোগান্তিকে সঙ্গী করে প্রতিদিন কাদা মাড়িয়ে পাঠ নিতে বাধ্য হচ্ছে সাড়ে ৩০০ খুদে শিক্ষার্থী।

কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নের ‘মগড়াকুড়া আকন্দপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ ঘুরে অবহেলার এ চিত্র ফুটে উঠেছে। ২০২০ সালে ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙনে মূল বিদ্যালয় ভবনটি বিলীন হয়ে গেলে দক্ষিণ খাউরিয়ার চরের একটি নিচু ফসলি জমিতে তড়িঘড়ি করে স্থানান্তর করা হয় এটি। সেই সময় সাময়িকভাবে দুটি টিনশেড ঘর তুলে কোনোমতে কার্যক্রম শুরু হলেও দীর্ঘ অর্ধযুগ পেরিয়ে গেলেও মাঠ ও আশপাশের নিচু জমি ভরাটের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বর্তমানে পুরো প্রাঙ্গণ নিচু থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় কাদা-পানি ঠেলে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীদের জামাকাপড় ও বই-খাতা ভিজে নষ্ট হচ্ছে।

মগড়াকুড়া আকন্দপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোঃ মোস্তাফিজার রহমান ও চতুর্থ শ্রেণির মোছাঃ সালমা খাতুন তাদের এই কষ্টের কথা জানিয়ে বলে যে, মাঠ কাদা হয়ে থাকায় তারা স্কুলে এসে খেলাধুলা পর্যন্ত করতে পারে না এবং দীর্ঘদিন ধরে এমন দুরবস্থা চললেও কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।

শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের দুর্ভোগের পাশাপাশি বিদ্যালয়টিতে দেখা দিয়েছে তীব্র অবকাঠামোগত ও শ্রেণিকক্ষ সংকট। স্থানান্তরের সময় নির্মিত টিনশেড ঘর দুটির একটি ইতোমধ্যে জরাজীর্ণ হয়ে পুরোপুরি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়েছে। অন্য টিনশেডের ছয়টি কক্ষের একটি দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় বাকি মাত্র পাঁচটি কক্ষে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত গাদাগাদি করে ক্লাস চালাতে হচ্ছে। এরমধ্যে একই চত্বরে ব্র্যাক পরিচালিত ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের বিকল্প পাঠদান কার্যক্রম চলায় শ্রেণিকক্ষ সংকট আরও তীব্র রূপ ধারণ করেছে।

মগড়াকুড়া আকন্দপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, দুর্গম চরাঞ্চলের সাড়ে ৩০০ শিক্ষার্থীর স্বাভাবিক পাঠদান নিশ্চিত করতে মাঠ ভরাট, পানি নিষ্কাশন ও নতুন ভবনের আবেদন জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন।

কথা হলে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘মাঠ ভরাট ও পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী সমাধানের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।’

চিলমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান জানান, বিষয়টি চিলমারী উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে এবং সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া ‘প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি-৫’ (PEDP-5) চালু হলে বিদ্যালয়টির জন্য নতুন একটি বহুতল ভবন নির্মাণের প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন জানিয়ে দ্রুততম সময়ে সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

শেয়ার করুন