বগুড়ায় জেলখানার ড্রেন থকে কারারক্ষী লাশ উদ্ধার

- আপডেট সময় : ০৮:১৭:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৩ ১৩১ বার পড়া হয়েছে

শাহজাহান আলী, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি:
বগুড়ার জেলখানার সীমানা প্রাচীরের বাইরে ড্রেনের ভেতর থেকে একরামুল হক (৪০) নামের এক কারারক্ষীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
১৯ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) বিকাল ৫ টার দিকে বগুড়া জেলাখানার দক্ষিণ পূর্ব কোণে অবস্হিত ২নং গেট সংলগ্ন ড্রেন থেকে একরামুল হকের এ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের সময় তার মাথার বাঁম্প পাশে ক্ষত স্হান থেকে রক্ত পরছিল। তবে কিভাবে তার মৃত্যু হলো সে বিযয়ে কারা প্রশাসন এবং পুলিশ কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে কিছু বলতে পারেন নি।
নিহত একরামুল হক নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার কান্দা গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে। একরামগল হক
বগুড়া কারাগারে ব্যারাক থেকেই দায়িত্ব পালন করতেন। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) স্নিগ্ধ আখতার।
বগুড়া জেলখানার জেলার পদে কর্মরত ফরিদুর রহমান রুবেল জানান,সীমানা প্রাচীরের দক্ষিণ পূর্ব কোণায় অবস্হিত ২নং গেট এলাকায় বুধবার দিবাগত রাত ১টা থেকে ৩ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য সেখানে যান একরামুল হক। তিনি বলেন,বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে হারেজ নামে কর্তব্যরত রিজার্ভ হাবিলদার আমাকে জানান যে, কারারক্ষী একরামুলের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তরাপর খুঁজতে গিয়ে বেলা ৩টার দিকে ২নং গেট সংলগ্ন ড্রেনের ভেতরে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এর পর পরেই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে কারারক্ষীর পোষাক ও জুতা পরা অবস্হায় একরামুলের লাশ ড্রেনের ভেতরে উপুর হয়ে পড়ে আছে। তার মাথার অংশ ড্রেনের ওরপ নির্মিত কালভার্টের দিকে ছিল।
বুধবার দিবাগত রাত ৩টায় একরামুলের কর্মঘন্টা শেষ হওয়ার পর তার নিখোঁজ হওয়ার তথ্য কেন ১১ ঘন্টা পর বেলা ২টায় পাওয়া গেল- এমন প্রশ্নের জবাবে জেলার ফরিদুর রহমান রুবেল বলেন, ‘একরামুলের দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর সেখানে মামুন নামে অপর এক কারারক্ষীর দায়িত্ব পালনের কথা ছিল। কিন্তু পরে জেনেছি যে, অসুস্থতার কারণে সে ( মামুন) দায়িত্ব পালন করেনি।
কারারক্ষী মামুনের অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মামুন বর্তমানে ডিউতিতে আছেন। একরামুলের রহস্যজনক মৃত্যু প্রসঙ্গে তিনি বলেন,’এটা তদন্তাধীন বিষয়। তদন্ত ছাড়া কিছু বলা যাবে না।
কারারক্ষী একরামুলের শ্যালক রবিউল ইসলাম জানান,তার ভগ্নিপতির কোন রোগ ব্যধি ছিল না।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(প্রশাসন) স্নিগ্ধ আখতার জানান, জেল খানার ১নং গেটসহ সীমানা প্রাচীরের বাইরে প্রায় সকল স্হানে সিসি ক্যামেরা থাকলেও যেখানে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে সেখানে কোন সিসি ক্যানেরা ছিল না।মৃত্যুর কারণ জানতে আমরা পুরো বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখবো। একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশের সুরতহাল করা হবে এবং তারপর ময়না তদন্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন,আমাদের একাধিক টিম এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।