এবিসি ন্যাশনাল নিউজ২৪ ইপেপার

ব্রেকিং নিউজঃ
ভূরুঙ্গামারীতে ইসলামী যুব আন্দোলনের আয়োজনে ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান  বগুড়ার তথাকথিত ‘মিনি জাফলংয়ে গোসল করতে গিয়ে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু বাগমারায় ছুরিকাঘাত ও গনপিটুনিতে নিহত-২  আহত ৬ পুলিশ সদস্য  আমতলী তে স্ত্রী কে কুপিয়ে হাত কর্তন করলো স্বামী। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার সাথে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বৈঠক আগামী পরশু রাম নবমীতে শান্তি শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ মমতার  নিষিদ্ধ ঘো‌ষিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেফতার ঈদ আনন্দেও অবহেলিত নয় মা ও শিশু স্বাস্থ্য: বটিয়াঘাটায় বিশেষ সেবা প্রদান শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবু’র সহযোগী সন্ত্রাসীদের অস্ত্র-গোলাবারুদ, বৈদেশিক মুদ্রা ও বিপুল পরিমাণ টাকাসহ গ্রেফতার জয়পুরহাটের টাউন হলটি যেন ভুতুড়ে বাড়ি

একটানা বৃষ্টিতে স্থবির বগুড়ার জনজীবন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০৩:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ অক্টোবর ২০২৩ ১০৮ বার পড়া হয়েছে

 

মিরু হাসান, স্টাফ রিপোর্টার
বগুড়ায় ২দিনব্যাপী টানা বৃষ্টিতে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। শহরের প্রায় বেশির ভাগ এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। দিনের বেলায় হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে জেলার বিভিন্ন সড়কগুলোতে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দিনব্যাপী একটানা মুষলধারে এই ভারী বৃষ্টিপাত হয়। যা এখনও চলমান রয়েছে।
টানা এই বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ভ্যান-রিকশাচালক, হতদরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষ। সকাল থেকেই জরুরি কোনো কাজ ছাড়া বাসার বাইরে বের হচ্ছেন না সাধারণ মানুষ।
সান্তাহার শহরের রেলগেট চত্ত্বরে অলস সময় পার করা রিকশাচালক জালাল উদ্দিন বলেন, দুইদিন থেকেই একটানা বৃষ্টি। এক মিনিটের জন্য বৃষ্টি থামতে দেখিনি। অন্যদিন বৃষ্টি হলেও শহরে মানুষের আনাগোনা থাকে। বৃষ্টির মধ্যেও মাথায় পলিথিন দিয়ে রিকশা চালিয়ে ভালোই ইনকাম হয়। কিন্তু কাল থেকে এতো বৃষ্টির মধ্যে মানুষ বাসা-বাড়ি থেকে তেমন একটা বের হয়নি। এক কথায় রিকশার যাত্রী কম। তাই ইনকামও কম হয়েছে।
বগুড়া সদর উপজেলার চাঁপাপুর ইউনিয়নের দিনমজুর মুন্টু মিয়া বলেন, সকাল থেকে অঝোর ধারায় বৃষ্টি ঝরছেই। অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাই। দিন আনি দিন খাই। স্ত্রী ও তিন ছেলে-মেয়ে নিয়ে আজ কী খাবো সেটাই ভাবছি। আজকের বৃষ্টি এ বছরের সবচেয়ে সেরা বৃষ্টি হয়েছে।
শহরের এলাকার চা-বিক্রেতা ক্বাউয়ুম বলেন, আজ মনে হয় এ বছরের সবচেয়ে সেরা বৃষ্টি। এক মুহূর্তের জন্যও বৃষ্টি থামেনি। অন্যদিনের তুলনায় বেচাবিক্রি একেবারেই কম। সারা দিনের খরচই উঠবে না।
এদিকে সকাল থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়েন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অফিসে যাওয়া মানুষ এবং খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষেরা। স্কুল ও অফিস ছুটির পর যানবাহনের স্বল্পতার কারণে অনেককেই বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে। এসব কারণে বেশিরভাগ স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম।
জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্র জানান, বুধবার ভোর থেকেই বগুড়ায় অবিরাম বৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ৩৪ দশমিক ৮ মিলিমিটার। তবে আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে এই বৃষ্টির প্রভাব কমে আসতে পারে। বৃষ্টিপাতের কারণে তাপমাত্রা কমলেও বৃষ্টিপাত কমে গেলে তাপমাত্রা বাড়বে বলেও জানিয়েছেন এই সূত্রটি।

শেয়ার করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

একটানা বৃষ্টিতে স্থবির বগুড়ার জনজীবন

আপডেট সময় : ০৭:০৩:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ অক্টোবর ২০২৩

 

মিরু হাসান, স্টাফ রিপোর্টার
বগুড়ায় ২দিনব্যাপী টানা বৃষ্টিতে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। শহরের প্রায় বেশির ভাগ এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। দিনের বেলায় হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে জেলার বিভিন্ন সড়কগুলোতে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দিনব্যাপী একটানা মুষলধারে এই ভারী বৃষ্টিপাত হয়। যা এখনও চলমান রয়েছে।
টানা এই বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ভ্যান-রিকশাচালক, হতদরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষ। সকাল থেকেই জরুরি কোনো কাজ ছাড়া বাসার বাইরে বের হচ্ছেন না সাধারণ মানুষ।
সান্তাহার শহরের রেলগেট চত্ত্বরে অলস সময় পার করা রিকশাচালক জালাল উদ্দিন বলেন, দুইদিন থেকেই একটানা বৃষ্টি। এক মিনিটের জন্য বৃষ্টি থামতে দেখিনি। অন্যদিন বৃষ্টি হলেও শহরে মানুষের আনাগোনা থাকে। বৃষ্টির মধ্যেও মাথায় পলিথিন দিয়ে রিকশা চালিয়ে ভালোই ইনকাম হয়। কিন্তু কাল থেকে এতো বৃষ্টির মধ্যে মানুষ বাসা-বাড়ি থেকে তেমন একটা বের হয়নি। এক কথায় রিকশার যাত্রী কম। তাই ইনকামও কম হয়েছে।
বগুড়া সদর উপজেলার চাঁপাপুর ইউনিয়নের দিনমজুর মুন্টু মিয়া বলেন, সকাল থেকে অঝোর ধারায় বৃষ্টি ঝরছেই। অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাই। দিন আনি দিন খাই। স্ত্রী ও তিন ছেলে-মেয়ে নিয়ে আজ কী খাবো সেটাই ভাবছি। আজকের বৃষ্টি এ বছরের সবচেয়ে সেরা বৃষ্টি হয়েছে।
শহরের এলাকার চা-বিক্রেতা ক্বাউয়ুম বলেন, আজ মনে হয় এ বছরের সবচেয়ে সেরা বৃষ্টি। এক মুহূর্তের জন্যও বৃষ্টি থামেনি। অন্যদিনের তুলনায় বেচাবিক্রি একেবারেই কম। সারা দিনের খরচই উঠবে না।
এদিকে সকাল থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়েন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অফিসে যাওয়া মানুষ এবং খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষেরা। স্কুল ও অফিস ছুটির পর যানবাহনের স্বল্পতার কারণে অনেককেই বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে। এসব কারণে বেশিরভাগ স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম।
জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্র জানান, বুধবার ভোর থেকেই বগুড়ায় অবিরাম বৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ৩৪ দশমিক ৮ মিলিমিটার। তবে আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে এই বৃষ্টির প্রভাব কমে আসতে পারে। বৃষ্টিপাতের কারণে তাপমাত্রা কমলেও বৃষ্টিপাত কমে গেলে তাপমাত্রা বাড়বে বলেও জানিয়েছেন এই সূত্রটি।

শেয়ার করুন