এবিসি ন্যাশনাল নিউজ২৪ ইপেপার

ব্রেকিং নিউজঃ
ভূরুঙ্গামারীতে ইসলামী যুব আন্দোলনের আয়োজনে ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান  বগুড়ার তথাকথিত ‘মিনি জাফলংয়ে গোসল করতে গিয়ে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু বাগমারায় ছুরিকাঘাত ও গনপিটুনিতে নিহত-২  আহত ৬ পুলিশ সদস্য  আমতলী তে স্ত্রী কে কুপিয়ে হাত কর্তন করলো স্বামী। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার সাথে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বৈঠক আগামী পরশু রাম নবমীতে শান্তি শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ মমতার  নিষিদ্ধ ঘো‌ষিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেফতার ঈদ আনন্দেও অবহেলিত নয় মা ও শিশু স্বাস্থ্য: বটিয়াঘাটায় বিশেষ সেবা প্রদান শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবু’র সহযোগী সন্ত্রাসীদের অস্ত্র-গোলাবারুদ, বৈদেশিক মুদ্রা ও বিপুল পরিমাণ টাকাসহ গ্রেফতার জয়পুরহাটের টাউন হলটি যেন ভুতুড়ে বাড়ি

বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে অনিয়ম, ভেঙে দিল এলাকাবাসী

মোঃ আল আমিন জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৬:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১০৭ বার পড়া হয়েছে

বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে অনিয়ম, ভেঙে দিল এলাকাবাসী

মোঃ আল আমিন
জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ ১৫ সেপ্টম্বর, 

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার রামতনু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য নিন্ম মানের ইট, বালু ও খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী বিদ্যালয়ে নির্মাণাধীণ ইটের দেওয়াল ও ইট ভেঙে ফেলেছে। রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব নিন্মমানের সামগ্রী অপসারণ করে ভালো মানের ইট, বালু ও খোয়া দিয়ে নতুন করে পূনরায় ভবন নির্মাণের কথা জানান।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাঁচবিবি উপজেলার রামতনু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। মাঠের পাশে খামাল দিয়ে রাখা হয়েছে নিন্মমানের ইট। আর সেই ইট দিয়ে ভবনের কাজ করছে ঠিকাদারি  প্রতিষ্ঠান। নিন্মমানের ইট দিয়ে বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ কাজে এলাকাবাসী বাঁধা দিলেও তার তোয়াক্কা না করে বহালতবিয়তে নিন্মমানের ইট, বালু ও খোয়া দিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন কাজ করছে। এতে স্থানীয় এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা ক্ষিপ্ত হয়ে এসব নিন্মমানের ইট দিয়ে নির্মাণাধীণ বিদ্যালয়ের দেওয়াল হাত ও পা দিয়ে গুড়িয়ে ভেঙে ফেলে দেয়। এসময় স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে কাজ বন্ধ রাখেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

বিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থী রিফাত হোসেন বলেন, আমাদের ছেলে মেয়েরা এই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন। বিদ্যালয়টির একাডেমিক ভবনের কাজ শুরু থেকেই নিন্মমানের ইট, বালু ও খোয়া দিয়ে কাজ শুরু করেছে। আমরা বাঁধা দিলেও প্রধান শিক্ষক ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন কোনো গুরুত্ব দেয়নি। তারা অনিয়ম করে কাজ চালিয়ে আসছিল এতদিন। একারনে আমরা কোনো প্রতিকার না পেয়ে এলাকাবাসীরা সবাই মিলে বিদ্যালয়ের ভবনে নিন্মমানের ইট দিয়ে তৈরী দেওয়াল ভেঙে দিয়েছি এবং এসব ইট, বালু অপসারণ করে ভালো ভাবে কাজ করার দাবি জানাচ্ছি। 

রামতনু গ্রামের শহীদ হোসেন বলেন, এভাবে নিন্মমানের ইট, বালু দিয়ে স্কুলের ভবন নির্মাণ হলে তা ভবিষ্যতে কোমলমতি শিশুদের জন্য হুমকির কারন হয়ে দাঁড়াবে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক এখানকার সবকিছুর দেখভালের দায়িত্বে আছেন অথচ তবুও অনিয়ম, দূর্নীতি করে কাজ করছেন। প্রধান শিক্ষককে একাধিকবার বলার পরও বিষয়টি আমলে নেয়নি। সব নিন্মমানের ইট দিয়ে কাজ করছে। 

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট ম্যানেজার মোঃ সবুর হোসেন বলেন, এখানে নিন্মমানের ইট দিয়ে স্কুলের ভবন নির্মাণের কাজ চলছিল। এলাকাবাসী তা ধরে বাঁধা দিয়েছেন। আমরা কাজ বন্ধ রেখেছি। নিন্মমানের ইট অপসারণ করে তারপর নতুন ইট এনে আমরা কাজ শুরু করব। তাছাড়া আমি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট ম্যানেজার। আমার দায়িত্ব ঠিকাদারের সব মালামাল দেখাশোনা করা। 

রামতনু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, আমার বিরুদ্ধে এলাকাবাসী যে, অভিযোগ করেছেন তা সঠিক নয়। স্কুল বন্ধ ছিল। সেই সুযোগে ঠিকাদারের লোকজন নিন্মমানের ইট এনে কাজ শুরু করেছে। আজকেই এক সাংবাদিকের মাধ্যমে জানতে পারলাম যে, আমার স্কুলে নিন্মমানের ইট দিয়ে কাজ হচ্ছে।

পাঁচবিবি প্রকৌশলী অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও রিচিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

পাঁচবিবি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক বলেন, রামতনু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ শুনে তাৎক্ষণিক ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষককে কাজ বন্ধ রাখার জন্য বলেছি। নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে স্কুলের কোনো কাজ হবেনা। ভালো মানের সামগ্রী ব্যবহার করার জন্য বলা হয়েছে।

শেয়ার করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে অনিয়ম, ভেঙে দিল এলাকাবাসী

আপডেট সময় : ০৫:৫৬:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪

বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে অনিয়ম, ভেঙে দিল এলাকাবাসী

মোঃ আল আমিন
জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ ১৫ সেপ্টম্বর, 

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার রামতনু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য নিন্ম মানের ইট, বালু ও খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী বিদ্যালয়ে নির্মাণাধীণ ইটের দেওয়াল ও ইট ভেঙে ফেলেছে। রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব নিন্মমানের সামগ্রী অপসারণ করে ভালো মানের ইট, বালু ও খোয়া দিয়ে নতুন করে পূনরায় ভবন নির্মাণের কথা জানান।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাঁচবিবি উপজেলার রামতনু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। মাঠের পাশে খামাল দিয়ে রাখা হয়েছে নিন্মমানের ইট। আর সেই ইট দিয়ে ভবনের কাজ করছে ঠিকাদারি  প্রতিষ্ঠান। নিন্মমানের ইট দিয়ে বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ কাজে এলাকাবাসী বাঁধা দিলেও তার তোয়াক্কা না করে বহালতবিয়তে নিন্মমানের ইট, বালু ও খোয়া দিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন কাজ করছে। এতে স্থানীয় এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা ক্ষিপ্ত হয়ে এসব নিন্মমানের ইট দিয়ে নির্মাণাধীণ বিদ্যালয়ের দেওয়াল হাত ও পা দিয়ে গুড়িয়ে ভেঙে ফেলে দেয়। এসময় স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে কাজ বন্ধ রাখেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

বিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থী রিফাত হোসেন বলেন, আমাদের ছেলে মেয়েরা এই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন। বিদ্যালয়টির একাডেমিক ভবনের কাজ শুরু থেকেই নিন্মমানের ইট, বালু ও খোয়া দিয়ে কাজ শুরু করেছে। আমরা বাঁধা দিলেও প্রধান শিক্ষক ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন কোনো গুরুত্ব দেয়নি। তারা অনিয়ম করে কাজ চালিয়ে আসছিল এতদিন। একারনে আমরা কোনো প্রতিকার না পেয়ে এলাকাবাসীরা সবাই মিলে বিদ্যালয়ের ভবনে নিন্মমানের ইট দিয়ে তৈরী দেওয়াল ভেঙে দিয়েছি এবং এসব ইট, বালু অপসারণ করে ভালো ভাবে কাজ করার দাবি জানাচ্ছি। 

রামতনু গ্রামের শহীদ হোসেন বলেন, এভাবে নিন্মমানের ইট, বালু দিয়ে স্কুলের ভবন নির্মাণ হলে তা ভবিষ্যতে কোমলমতি শিশুদের জন্য হুমকির কারন হয়ে দাঁড়াবে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক এখানকার সবকিছুর দেখভালের দায়িত্বে আছেন অথচ তবুও অনিয়ম, দূর্নীতি করে কাজ করছেন। প্রধান শিক্ষককে একাধিকবার বলার পরও বিষয়টি আমলে নেয়নি। সব নিন্মমানের ইট দিয়ে কাজ করছে। 

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট ম্যানেজার মোঃ সবুর হোসেন বলেন, এখানে নিন্মমানের ইট দিয়ে স্কুলের ভবন নির্মাণের কাজ চলছিল। এলাকাবাসী তা ধরে বাঁধা দিয়েছেন। আমরা কাজ বন্ধ রেখেছি। নিন্মমানের ইট অপসারণ করে তারপর নতুন ইট এনে আমরা কাজ শুরু করব। তাছাড়া আমি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট ম্যানেজার। আমার দায়িত্ব ঠিকাদারের সব মালামাল দেখাশোনা করা। 

রামতনু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, আমার বিরুদ্ধে এলাকাবাসী যে, অভিযোগ করেছেন তা সঠিক নয়। স্কুল বন্ধ ছিল। সেই সুযোগে ঠিকাদারের লোকজন নিন্মমানের ইট এনে কাজ শুরু করেছে। আজকেই এক সাংবাদিকের মাধ্যমে জানতে পারলাম যে, আমার স্কুলে নিন্মমানের ইট দিয়ে কাজ হচ্ছে।

পাঁচবিবি প্রকৌশলী অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও রিচিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

পাঁচবিবি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক বলেন, রামতনু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ শুনে তাৎক্ষণিক ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষককে কাজ বন্ধ রাখার জন্য বলেছি। নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে স্কুলের কোনো কাজ হবেনা। ভালো মানের সামগ্রী ব্যবহার করার জন্য বলা হয়েছে।

শেয়ার করুন