এবিসি ডেস্ক রিপোর্টঃ
বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন সম্পর্কের সূচনা হয়েছে। জাতিসঙ্ঘের অধিবেশনের ফাঁকে গতকাল রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের মধ্যকার বৈঠকই এর প্রমাণ। বৈঠকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন দেয়ার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। কূটনীতিকদের ভাষ্য, প্রধান উপদেষ্টার নিউ ইয়র্ক সফরকালে বিভিন্ন বৈঠক বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সাথে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ বিভিন্ন দেশ এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থাগুলো যে জোরালোভাবে যুক্ত থাকবে এমনটাই বার্তা দিচ্ছে।
অন্যদিকে নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ কূটনৈতিক সূত্র বলছে, ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের সাথে মার্কিন প্রশাসন কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে চায়। কূটনৈতিক সূত্রের ভাষ্য, বৈঠকে জো বাইডেন ও ড. ইউনূসের মধ্যকার বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন অধ্যায় রচনা হয়েছে। জাতিসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে বাংলাদেশের কোনো সরকারপ্রধানের প্রথম বৈঠক এটি। গত তিন দশকে জাতিসঙ্ঘের অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের কোনো শীর্ষ নেতার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কোনো বৈঠক হয়নি। বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সাথে সব সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সংবর্ধনায় দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে।
মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় জাতিসঙ্ঘ সদর দফতরে দুই দেশের সরকারপ্রধান বৈঠকে মিলিত হন।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন বাইডেনের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেস্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে কাছে পেয়ে বুকে টেনে নেন। হাতে হাত রেখে বলেন, বাংলাদেশের সংস্কারের যে লক্ষ্য নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ঠিক করেছেন, তাকে বাস্তবে রূপ দিতে সব ধরনের সহযোগিতা করবে হোয়াইট হাউজ। বৈঠকে ড. ইউনূস বিগত সরকারের আমলে সব ধরনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সাহসী ভূমিকা ও বাংলাদেশ পুনর্গঠনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা জো বাইডেনকে জানান। ড. ইউনূস জোর দিয়ে বলেন, দেশ পুনর্গঠনে তার সরকারকে অবশ্যই সফল হতে হবে। এ সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন যেকোনো সাহায্যে বাংলাদেশ সরকারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, শিক্ষার্থীরা যদি দেশের জন্য এত ত্যাগ স্বীকার করতে পারেন, তাহলে তাদেরও (যুক্তরাষ্ট্র সরকার) পূর্ণ সমর্থন করা উচিত।
প্রসঙ্গত, গত তিন দশকে জাতিসঙ্ঘের অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের কোনো শীর্ষ নেতার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কোনো বৈঠক হয়নি। বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সাথে সব সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সংবর্ধনায় দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে।
নিউ ইয়র্কে কাজ করেছেন এবং এখন কাজ করছেন, বাংলাদেশের এমন পাঁচজন কূটনীতিক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সাধারণত জাতিসঙ্ঘ অধিবেশনে তার নির্ধারিত বক্তৃতার দিন সকালে নিউ ইয়র্কে পৌঁছান। তিনি সে দিন সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তৃতা দেন। এরপর বিকেলে জাতিসঙ্ঘের অধিবেশনে আসা রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সম্মানে সংবর্ধনার আয়োজন করেন। জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলার ফাঁকে কোনো দেশের শীর্ষ নেতার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দ্বিপক্ষীয় সাক্ষাৎ প্রায় বিরল।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক একাধিক কূটনীতিকের মতে, চিরাচরিত প্রথা ভেঙে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক প্রতীকী অর্থে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সংক্ষিপ্ত হলেও দুই নেতার বৈঠক এই বার্তাই দিচ্ছে যে হোয়াইট হাউজ বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বাসসকে বলেন, ‘জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরষিদের অধিবেশনের সাইডলাইনে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের সাথে এ ধরনের বৈঠক বিরল ঘটনা। এ বৈঠকটি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের সস্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করবে। এটা আমাদের জন্য সুখবর।’
নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ মিশনের একজন কর্মকর্তা জানান, জো বাইডেনের সাথে বৈঠকের পাশাপাশি ড. ইউনূস বেশ কয়েকজন সরকারপ্রধান ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রধানের সাথে উচ্চ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন। এদের অন্যতম, জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহ, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী ডিক স্কোফ, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মহাপরিচালক গিলবার্ট হাংবো, জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার সম্পর্কিত হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক অন্যতম। এ ছাড়া বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা প্রধান উপদেষ্টার সাথে দেখা করবেন।
জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে যোগ দিতে বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে পৌঁছেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টা ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী কাতার এয়ারওয়েজের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইট নিউ ইয়র্ক সময় সোমবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
জাতিসঙ্ঘে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি মুহাম্মদ আবদুল মুহিত এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ডি এম সালাউদ্দিন মাহমুদ বিমানবন্দরে প্রধান উপদেষ্টাকে অভ্যর্থনা জানান। এর আগে প্রধান উপদেষ্টা ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী কাতার এয়ারওয়েজের বাণিজ্যিক ফ্লাইটটি সোমবার ভোর ৫টায় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা করে।
এ দিকে জাতিসঙ্ঘ বাংলাদেশ মিশনের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রধান উপদেষ্টা (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাতে) জাতিসঙ্ঘ সদর দফতরের সাধারণ পরিষদ হলে পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ আলোচনায় যোগ দেবেন। তিনি ২৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো: তৌহিদ হোসেন জানান, শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্বের জাতিসঙ্ঘের অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব বাংলাদেশের জন্য অবশ্যই ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
জাস্টিন ট্রুডোকে ‘দ্য আর্ট অব ট্রায়াম্ফ’ উপহার
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস গতকাল কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে বাংলাদেশে গত জুলাই-আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানী ঢাকার দেয়ালে শিক্ষার্থীদের আঁকা বর্ণিল ও বৈচিত্র্যময় গ্রাফিতি চিত্রের একটি সঙ্কলন ‘দ্য আর্ট অব ট্রায়াম্ফ’ উপহার প্রদান করেছেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘ সদর দফতরে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্ট বইটি হস্তান্তর করেন।
বইটিতে জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্রদের নেতৃত্বে চলাকালে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য শহর ও নগরের দেয়ালে তরুণ শিক্ষার্থীদের আঁকা সেরা কিছু শিল্পকর্মের ছবি স্থান পেয়েছে।
ড. ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেয়ার পরপরই তিনি সংশ্লিষ্টদের এই আর্টবুক প্রকাশের নির্দেশ দেন।
জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব আয়োজিত সংবর্ধনায় যোগ দান : অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত সংবর্ধনায় যোগদান করেছেন।
নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘ সদর দফতরে স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় অনুষ্ঠানটি শুরু হয়, যেখানে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে যোগদানকারী বিশ্ব নেতাদের স্বাগত জানান সংস্থাটির মহাসচিব।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ইউনূস ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা, মরিশাসের প্রেসিডেন্ট পৃথ্বিরাজ সিং রূপন এবং জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার সম্পর্কিত হাইকমিশনার ভলকার টুর্কসহ অন্যান্যদের সাথে কুশল বিনিময় করেন।
জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে যোগ দিতে অধ্যাপক ইউনূস গতকাল সোমবার নিউ ইয়র্ক পৌঁছান। জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের আমন্ত্রণে তিনি সংস্থাটির ৭৯তম অধিবেশনে যোগদান করেন।
সূত্রঃ নয়া দিগন্ত
Board of Directors of ABC National News : Chief Editor and Advisor-Adv Monir Uddin, Ex.Editor and Advisor-Lion Eng.Ashraful Islam, Ex.Editor-Lion Dr.Mana and Lion Palash, Acting Editor-Tawhid Sarwar, News Editor-Aftab Parvez,News Sub Editor-Pojirul Islam and
Co-Editor Siam and Neon.
Dhaka Office : 67/4,5 Chaya Neer, Shanti Bagh Dhaka 1212.