বটিয়াঘাটায় অর্ধশতাধিক পূজা মন্ডপে বাসন্তি পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ।

- আপডেট সময় : ০৫:২২:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫ ৫১ বার পড়া হয়েছে

ইন্দ্রজিৎ টিকাদার
বটিয়াঘাটা(খুলনা)প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বটিয়াঘাটা উপজেলায় ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরের আনন্দ শেষ হতে না হতেই আজ ৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার থেকে মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ৫ দিনব্যাপী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী বাসন্তি দেবীর পূজা । উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নে প্রায় অর্ধশতাধিক পূজা মন্ডপে বাসন্তি দেবীর পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে । তবে এর মধ্যে উপজেলার ১নং জলমা,২ নং বটিয়াঘাটা সদর ও ৩ নং গঙ্গারামপুর ইউনিয়নে বেশিরভাগ পূজা মন্ডপে বাসন্তি পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে । আগামী ৪ এপ্রিল শুক্রবার মহাসপ্তমী, ৫ এপ্রিল শনিবার মহাঅষ্টমী উপলক্ষ্যে কুমারী পূজা, ৬ এপ্রিল রবিবার মহানবমী উপলক্ষ্যে বলিদান এবং ৭ এপ্রিল সোমবার মহা বিজয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হবে । বসন্ত কালে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয় বলে দেবীকে বাসন্তি দেবী বলা । আবার বাসন্তি দেবীকে কালের দেবীও বলা হয় । কথিত আছে, ত্রেতাযুগে ভগবান রঘুপতি রাম চন্দ্রের স্ত্রী সীতা দেবীকে লঙ্কাধিপতি রাক্ষসরাজ রাবণ হরণ করে লঙ্কায় নিয়ে যান । তখন ভগবান রাম চন্দ্র নারীর সম্মান রক্ষার্থে এবং স্ত্রী সীতা দেবীকে উদ্ধার করতে শক্তির আরাধনা করে বসন্ত কালের দেবীকে শরৎ কালে ডেকে এনে পূজা করে ছিল । সেই থেকে বসন্ত কালের দেবীকে শরৎ কালে ডেকে এনে ছিল বলে দেবীকে অকালবোধন বা শারদীয় দুর্গাপূজা বলা হয় । তবে পৌরাণিক কালে পূজা ঘটে হতো । কথিত আছে,রাজা সুরথ ও দেবাস নামে দুই ব্যক্তি সর্বপ্রথম বাংলাদেশে মুর্তি পুজা শুরু করেন । তার পর থেকে ভারতীয় উপমহাদেশে মুর্তি পুজার প্রচলন শুরু হয় । তবে কথিত আছে, এ পূজা রাজা জমিদারদের পূজা নামে খ্যাত ছিল । সম্ভবত ১৫৫৬ সালে সিন্ধু নদীর অববাহিকায় সর্বপ্রথম সার্বজনীন পূজা শুরু হয় । তার পর থেকে ভারতীয় উপমহাদেশে সার্বজনীন পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে । অপরদিকে বাসন্তি পূজাকে প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয় করে তুলতে বিভিন্ন মন্দিরের পূজা উদযাপন কমিটি নানা মাঙ্গলিক ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে । উপজেলার সর্ববৃহৎ পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে গঙ্গারামপুর ইউনিয়নের বয়ারভাঙ্গা বিশ্বম্ভর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে । এছাড়াও জলমা ইউনিয়নের চক্রাখালী,গজালমারী, জলমা,সাচিবুনিয়া,রাজবাঁধ উত্তর শৈলমারী, বটিয়াঘাটা সদর ইউনিয়নে নাহড়ীতলা, দক্ষিণ হাটবাটী মঠ,পার-বটিয়াঘাটা ,বদামতলা ও গঙ্গারামপুর ইউনিয়নে গঙ্গারামপুর,আমতলা, বয়ারভাঙ্গা সহ বিভিন্ন এলাকায় বাসন্তি পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে । মহা বিজয়া-কে ঘিরে মেলা আয়োজন করেছে বয়ারভাঙ্গা বিশ্বম্ভর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ ও সরকারি জলমা-চক্রাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে । অন্যদিকে পূজায় নাশকতা এড়াতে উপজেলা প্রশাসন ও থানা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে । টহল জোরদার সহ প্রত্যেকটি পুলিশ ফাঁড়িকে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে । এছাড়াও যৌথবাহিনী , ডিবি পুলিশ, জেলা পুলিশের বিশেষ টিম সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলে জানাগেছে ।