মিরু হাসান, স্টাফ রিপোর্টার
বগুড়ার কাহালু উপজেলার মুরইল ইউনিয়নের বাসিন্দা সালেহা বেগম। স্বামী মারা গেছেন কয়েক বছর হলো। এরপর তিনিই তার তিন সন্তানকে মানুষ করছেন। হঠাৎ আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন তার বাড়ির দেয়ালে ৫ হাজার টাকা চাঁদা চেয়ে পোস্টার সাঁটানো হয়েছে। চাঁদা না দিলে আগামী ৭ অক্টোবরের মধ্যে সন্তানদের অপহরণের হুমকিও দেওয়া হয়। এরপর থেকে আতঙ্কে রয়েছেন সালেহা।
স্থানীয়রা জানান এই চাঁদা শুধু সালেহার কাছেই নয়, এলাকায় অন্তত ৬০০ বাড়িতে একইভাবে পোস্টার সাঁটানো হয়েছে।
রোববার ভোরে গ্রামবাসীরা বিভিন্ন অঙ্কের চাঁদা দাবি করা লিফলেট বাড়ির দেয়ালে দেখতে পান। এরপর থেকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। তাদের মধ্যে একজন সালেহা। এই নারী জানান, ‘আমার বাড়িতে ৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে পোস্টার লাগানো হয়েছে। তিন ছেলে-মেয়ে আর নাতি-নাতনি বসবাস করি। এর মধ্যে চাঁদাবাজির পোস্টারে আতঙ্কের মধ্যে আছি। ছোট বাচ্চাদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি।’
পুলিশ জানায়, নোটিশে বাড়ির মালিকের আর্থিক ও পারিবারিক অবস্থা বিবেচনা করে সর্বনিম্ন ২০০ টাকা থেকে সর্বচ্চ ৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এছাড়া পোস্টারে বলা হয়েছে, টাকা ৬ তারিখের মধ্যে নির্দিষ্ট (নয়া পুকুরপাড়ে সোলার প্যানেলের নিচে বাক্সে) স্থানে দিতে হবে। টাকা না দিলে আগামী ৭ তারিখের পর ছেলে-মেয়ে হারিয়ে গেলে কোনো কিছু করার থাকবে না।
পোস্টারে আরও উল্লেখ করা হয়, কে বা কারা সেটা না খুঁজে অল্প কিছু টাকার জন্য বাচ্চাদের বিপদে না ফেলার ব্যাপারেও হুশিয়ারি দেয়া হয়। প্রত্যেককে নিজের টাকার সাথে একটা কাগজে নিজের নাম লিখে স্থাপিত বাক্সে ফেলার ব্যাপারে নির্দেশনাও দেয় এই দুর্বৃত্তদের চক্র। এটি জানাজানি হলে এলাকার অনেকে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
ওই গ্রামের বাসিন্দা শারমিন আকতার জানান, রাতের বেলায় কে পোস্টার লাগাইছে জানি না। অনেক কিছু লিখে রাখছে। কারও ২ হাজার, কারও ৫ হাজার টাকা চাঁদা ধরা হয়েছে। তবে আমার দরজায় ২০০ টাকা চেয়ে পোস্টার লাগাইছে। যাদের সন্তান আছে তাদের চাঁদা বেশি দিছে। আমার সন্তান নাই তাই ২০০ টাকা।
মোছা. আমেনা খাতুনের বাড়িতে দুটি পোস্টার সাঁটানো হয়েছে। তার একটিতে ২ হাজার অন্যটিতে ২০০ টাকা চাঁদা চেয়েছেন। তার স্বামী আলম হোসেন দিনমজুরের কাজ করেন। আমেনার ভাষ্য, এলাকার সবাই এখন ছোট ছোট সন্তান নিয়ে ভয়ের মধ্যে রয়েছেন।
সকালের চাঁদার পোস্টার দেখার পর সন্তানকে নিজে মাদ্রাসায় নিয়ে গেছেন মোছা. সুলতানা। তিনি জানান, দিনের বেলায় সাধারণত এলাকার পুরুষেরা কাজে বের হন। এই কারণে সন্তানদের দেখভাল তারাই করেন। আগে ছেলে-মেয়েরা একাই স্কুলে যাওয়া আসা করত। আজ এই লিফলেট দেখে কলিজা থরথর করে কাঁপছে।
অবশ্য ঘটনার পর সকালের দিকে বগুড়া জেলা পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা ওই এলাকার পরিদর্শন করেছেন। বগুড়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্নিগ্ধ আখতার বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। কারা কারা জড়িত তাদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
Board of Directors of ABC National News : Chief Editor and Advisor-Adv Monir Uddin, Ex.Editor and Advisor-Lion Eng.Ashraful Islam, Ex.Editor-Lion Dr.Mana and Lion Palash, Acting Editor-Tawhid Sarwar, News Editor-Aftab Parvez,News Sub Editor-Pojirul Islam and
Co-Editor Siam and Neon.
Dhaka Office : 67/4,5 Chaya Neer, Shanti Bagh Dhaka 1212.