জুলহাস উদ্দীন,তেঁতুলিয়া পঞ্চগড় প্রতিনিধি :
তেঁতুলিয়া উপজেলায় এক সময়ে শিক্ষা বিস্তারে অনন্য ভূমিকা পালন করে গণ সাহায্য সংস্থা নামের দেশের অন্যতম একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। মাঝে অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলায় স্থিমিত হয়ে যায় সংগঠনটির সব ধরণের কার্যক্রম। এই সময়ে তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের মাঝিপাড়া ডাহুক গুচ্ছগ্রাম এলাকায় প্রায় ১০ একর সাড়ে ১৪ শতক জমির মধ্যে সামাজিক বনায়ন করা বর্তমানে বেদখল হয়ে আছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীন বিশৃঙ্খলার সুযোগে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জমিগুলো দখল করে বর্তমানে চা বাগান করেছে বলেও জানান তারা। তাদের দাবি বনায়নের হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। গণ সংগঠনের সদস্যদের বঞ্চিত করা হয়েছে।
সম্প্রতি এনজিও প্রতিষ্ঠানটি আবারো ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তারা। একই সাথে বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারে জোর তৎপরতা শুরু করেছে তারা। গণ সাহায্য সংস্থার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জমিগুলো যারা ভোগদখল করে চা বাগান করেছেন তাদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং জমি দখল ছেড়ে দেয়ার দাবি জানান।
গণ সংগঠনের সদস্য হাসিনা বেগম বলেন, আমরা শিশু, কাঁঠাল, আমসহ প্রায় ৪০ হাজারেরও বেশি গাছের চারা লাগিয়েছি এখানে। কোন মজুরি পাইনি। আশা ছিলো গাছগুলি বিক্রি করে একটা অংশ আমরা পাবো। কিন্তু তার আগেই স্থানীয় কয়েকজন এই জমি দখল করে নেয় এবং আমাদের কষ্টে রোপিত গাছগুলো কেটে ফেলে। আমরা বাধা দিতে গেলে আমাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে।
গণ সংগঠনের আরেক সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, ডাহুকের পাড়ে এখানে গণ সাহায্য সংস্থা ছাড়া অন্য কারো জমি ছিলো না। এখানে এখনো আমাদের সংগঠনের ঘর রয়েছে। আমরা বনায়ন করেছিলাম। সেটি কেটে ফেলে কয়েকজন দখল করে চা বাগান করেছে। আমরা চাই সংগঠনের জমি দখল মুক্ত করে আবার সংগঠনকে দেয়া হোক। তাহলে আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার পাব।
গণ সাহায্য সংস্থার ম্যানেজার (ল্যান্ড) সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য হতদরিদ্র শিক্ষা বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা সুবিধা নিশ্চিত করা। শিক্ষার পাশাপাশি ডাহুক বনায়ন নামে একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। ১৯৯০ সালে ডাহুক নদীর পাশের প্রায় ১০ একর সাড়ে ১৪ শতক পতিত জমি কিনে নেয় আমাদের সংগঠন। পরে সেখানে গণ সংগঠনের সদস্যরা বিভিন্ন গাছের হাজার হাজার চারা রোপন করে।
২০১৪ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে আমাদের এই জমিগুলো স্থানীয় অধিবাসী রহুল আমিন হাওলাদার সহ তার ছেলে আশরাফ হোসেন রুবেল, মনোয়ার হোসেন হানিফ, আবুল কালাম ও কাজী অ্যান্ড কাজী নামের প্রতিষ্ঠান আমাদের জমিগুলো দখল করে চা বাগান করেছে। জমির সব কাগজপত্র আমাদের রয়েছে। ১৪২৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ করা আছে। আমাদের সংগঠনের নামে নামজারিও আছে। তাই আমরা দাবি জানাই যেন আমাদের সংগঠনের জমি সংগঠনকে ফিরিয়ে দেয়া হয়।
গণ সাহায্য সংস্থার ম্যানেজার (এডমিন) মশিউর রহমান বলেন, ডাহুক বনায়ন নামে আমাদের ১০ একরেরও বেশি জায়গা ছিলো। এখানে গণ সংগঠনের সদস্যরা মিলে অনেক গাছ রোপন ও পরিচর্যা করেছে। হতদরিদ্র এই সদস্যরাই এটার অংশীদার। মাঝে আমাদের সংগঠনের অভ্যন্তরীণ গোলযোগের কারণে মাঠ থেকে কর্মীরা চলে যায়। গণ সংগঠনের সদস্যদের নির্দেশনা দেয়ার মতো কেউ ছিলো না। এই সময়ে আমাদের জমি দখল করে চা লাগানোর প্রক্রিয়া শুরু হলে আমরা বাধা দেয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু জনবলের অভাবে তাদের সেভাবে প্রতিহত করতে পারি নি। আমাদের সব কাগজপত্র রয়েছে। এটি আমাদের কেনা সম্পত্তি। বর্তমানে সেটেলমেন্ট অফিসে শুনানি চলছে। আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি।
রুহুল আমিন হাওলাদারের ছেলে আশরাফ হোসেন রুবেল বলেন, জমিটি আমরা ১৯৭৮ সালে কিনে নিয়েছি। মোট ১১ একর কেনা জমির মধ্যে আমরা প্রায় ৬ একর জমি বুঝে পেয়েছি। বাকি জমিগুলোর জন্য এখনো বিভিন্ন দাগে আমাদের আপত্তি দেয়া আছে। গণ সাহায্য সংস্থা যে জমির কথা বলছে সেগুলো এই দাগে নেই। গণ সংগঠন যদি কাগজে কলমে প্রমাণ দিতে পারে তাহলে আমরা জমি দিয়ে দিবো। আর তারা যে বনায়নের কথা বলছে তা মিথ্যে।
তেঁতুলিয়া স্যাটেলমেন্ট অফিসের উপ-সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার আলমগীর হোসেন বলেন, আমরা ওই সংগঠনের মৌখিক আবেদনের প্রেক্ষিতে মাঠে এসে জমিগুলো কার দখলে রয়েছে তা দেখতে এসেছি। এখন কাগজপত্র পর্যালোচনা করে এই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করবো।
Board of Directors of ABC National News : Chief Editor and Advisor-Adv Monir Uddin, Ex.Editor and Advisor-Lion Eng.Ashraful Islam, Ex.Editor-Lion Dr.Mana and Lion Palash, Acting Editor-Tawhid Sarwar, News Editor-Aftab Parvez,News Sub Editor-Pojirul Islam and
Co-Editor Siam and Neon.
Dhaka Office : 67/4,5 Chaya Neer, Shanti Bagh Dhaka 1212.