এবিসি ন্যাশনাল নিউজ২৪ ইপেপার

ব্রেকিং নিউজঃ
ভূরুঙ্গামারীতে ইসলামী যুব আন্দোলনের আয়োজনে ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান  বগুড়ার তথাকথিত ‘মিনি জাফলংয়ে গোসল করতে গিয়ে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু বাগমারায় ছুরিকাঘাত ও গনপিটুনিতে নিহত-২  আহত ৬ পুলিশ সদস্য  আমতলী তে স্ত্রী কে কুপিয়ে হাত কর্তন করলো স্বামী। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার সাথে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বৈঠক আগামী পরশু রাম নবমীতে শান্তি শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ মমতার  নিষিদ্ধ ঘো‌ষিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেফতার ঈদ আনন্দেও অবহেলিত নয় মা ও শিশু স্বাস্থ্য: বটিয়াঘাটায় বিশেষ সেবা প্রদান শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবু’র সহযোগী সন্ত্রাসীদের অস্ত্র-গোলাবারুদ, বৈদেশিক মুদ্রা ও বিপুল পরিমাণ টাকাসহ গ্রেফতার জয়পুরহাটের টাউন হলটি যেন ভুতুড়ে বাড়ি

জয়পুরহাটের টাউন হলটি যেন ভুতুড়ে বাড়ি

মোঃ রুহুল আমিন পারভেজ  জেলা প্রতিনিধি জয়পুরহাট 
  • আপডেট সময় : ১০:১৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ ১৯ বার পড়া হয়েছে

মোঃ রুহুল আমিন পারভেজ

জেলা প্রতিনিধি জয়পুরহাট

দীর্ঘ ৪ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে ঐতিহ্যবাহী জয়পুরহাট জেলা পরিষদ মিলনায়তনটি (টাউন হল)। পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় টাউন হলটিতে চলে মাদকসেবীদের আনাগোনা। একটা সময় এখানে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হতো। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় হলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন সব অনুষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তাই দ্রুত টাউন হলটি পুনর্নির্মাণ করে জেলার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার দাবি স্থানীয়দের। এদিকে এটি পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষও।

 

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ১৯৮৪ সালে জয়পুরহাট জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। এ সময় শহরের সিও কলোনি এলাকায় নির্মাণ করা হয় জেলা পরিষদ মিলনায়তন, যা টাউন হল নামে পরিচিত। এখানে ৪ বছর আগেও সাংস্কৃতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। দীর্ঘ চার দশক ধরে অবকাঠামোসহ ভবনটি সংস্কার না হওয়ায় অযতœ আর অবহেলায় ধীরে ধীরে হলটি জৌলুস হারিয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। ২০২০ সালের পর থেকে এখানে আর কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় না। সড়কের সামনে হলের বাউন্ডারি ওয়ালের কিছু অংশ ভেঙে গেছে। হলের ভেতরে চেয়ার-টেবিলসহ অন্য আসবাবপত্রগুলো ধুলোবালির আস্তরণে অযতেœ পড়ে আছে। ফাটল ধরেছে ভবনের বিভিন্ন স্থানে। খুলে পড়েছে কিছু জায়গার পলেস্তারা। এখন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটি জরাজীর্ণ ভবনে পরিণত হয়েছে, যেন ভুতুড়ে বাড়ি। পরিত্যক্ত থাকায় রাত-বিরাতে চলে মাদকসেবীদের আনাগোনা। প্রায়ই ছিঁচকে চোরেরা ছোটখাটো জিনিজপত্র চুরি করে নিয়ে যায় এখান থেকে। সেখানে বর্তমানে শুধু একজন কেয়ারটেকার থাকেন। স্থানীয়রা বলছেন, অবহেলা আর অযতেœ জেলার ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটি হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই এটি নতুনভাবে মেরামত করে শহরের ঐতিহ্য রক্ষা করা হোক।

 

শহরের সিও কলোনি এলাকার গোলাম মোরশেদ বুলবুল বলেন, ‘এখানে আগে সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে মিটিং, সভা-সমাবেশ হতো। জাঁকজমকপূর্ণ একটা অবস্থানে ছিল। বর্তমানে এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বলা যায়, এটি এখন ভুতুড়ে বাড়ি। এখানে নেশাখোরদের আখড়াসহ অসামাজিক কাজের কথা শোনা যায়। এই প্রতিষ্ঠানটি রক্ষা করতে গেলে নতুন আঙ্গিকে পুনর্নির্মাণ করতে হবে।’

 

স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে টাউন হলে আমরা নাচ-গান, নাটকসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখে এসেছি। কিন্তু এখন অবহেলিত ও অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। বর্তমানে এখানে খারাপ ছেলেরা এসে আড্ডা দেয়, নেশা করে। যেহেতু বাউন্ডারি ওয়াল ভাঙাচোরা, তাই চাই এটি ভেঙে নতুনভাবে চালু করা হোক।’

 

স্থানীয় বাসিন্দা কামরুজ্জামান প্রিন্স বলেন, ‘এই টাউন হলের সঙ্গে জয়পুরহাটের অনেক ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে। কিন্তু দীর্ঘদিন জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকায় এটি ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। তাই আমরা চাই, দ্রুত এটি পুনর্নির্মাণ করে আবারও আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে আসা হোক।’

 

টাউন হলের পাশের দোকানি ফেরদৌস হোসেন বলেন, ‘টাউন হল যখন চালু ছিল, তখন এখানে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হতো। এ কারণে অনেক মানুষজনও আসতেন। তখন দোকানে অনেক বিক্রি হতো। কিন্তু এখন বন্ধ থাকায় আর আগের মতো বিক্রি হয় না। এজন্য দ্রুত এই টাউন হলটি চালুর দাবি জানাচ্ছি।’

 

টাউন হলে দায়িত্বরত কেয়ারটেকার জামিল হোসেন বলেন, ‘২০২০ সাল থেকে এটি বন্ধ আছে। খোলামেলা জায়গা ও বাউন্ডারি ভাঙা থাকায় আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করি মাদকসেবী ও ছিঁচকে চোর আটকানোর জন্য।’

 

জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার মোহাম্মদ রায়হান বলেন, ‘১৯৮৪ সালে টাউন হলটি নির্মাণ করা হলেও বিভিন্ন সময় অব্যবস্থাপনার কারণে এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট থেকে বাউন্ডারি ওয়াল সংস্কারের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে টেন্ডার সম্পন্ন হলে বাউন্ডারির কাজ শুরু করতে পারব। এছাড়া যে ভবন রয়েছে সেটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করার কার্যক্রম আমরা নিয়েছি। পরবর্তী সময়ে এখানে বহুতল ভবন তৈরি করা হবে।’

শেয়ার করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

জয়পুরহাটের টাউন হলটি যেন ভুতুড়ে বাড়ি

আপডেট সময় : ১০:১৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫

মোঃ রুহুল আমিন পারভেজ

জেলা প্রতিনিধি জয়পুরহাট

দীর্ঘ ৪ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে ঐতিহ্যবাহী জয়পুরহাট জেলা পরিষদ মিলনায়তনটি (টাউন হল)। পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় টাউন হলটিতে চলে মাদকসেবীদের আনাগোনা। একটা সময় এখানে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হতো। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় হলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন সব অনুষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তাই দ্রুত টাউন হলটি পুনর্নির্মাণ করে জেলার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার দাবি স্থানীয়দের। এদিকে এটি পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষও।

 

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ১৯৮৪ সালে জয়পুরহাট জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। এ সময় শহরের সিও কলোনি এলাকায় নির্মাণ করা হয় জেলা পরিষদ মিলনায়তন, যা টাউন হল নামে পরিচিত। এখানে ৪ বছর আগেও সাংস্কৃতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। দীর্ঘ চার দশক ধরে অবকাঠামোসহ ভবনটি সংস্কার না হওয়ায় অযতœ আর অবহেলায় ধীরে ধীরে হলটি জৌলুস হারিয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। ২০২০ সালের পর থেকে এখানে আর কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় না। সড়কের সামনে হলের বাউন্ডারি ওয়ালের কিছু অংশ ভেঙে গেছে। হলের ভেতরে চেয়ার-টেবিলসহ অন্য আসবাবপত্রগুলো ধুলোবালির আস্তরণে অযতেœ পড়ে আছে। ফাটল ধরেছে ভবনের বিভিন্ন স্থানে। খুলে পড়েছে কিছু জায়গার পলেস্তারা। এখন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটি জরাজীর্ণ ভবনে পরিণত হয়েছে, যেন ভুতুড়ে বাড়ি। পরিত্যক্ত থাকায় রাত-বিরাতে চলে মাদকসেবীদের আনাগোনা। প্রায়ই ছিঁচকে চোরেরা ছোটখাটো জিনিজপত্র চুরি করে নিয়ে যায় এখান থেকে। সেখানে বর্তমানে শুধু একজন কেয়ারটেকার থাকেন। স্থানীয়রা বলছেন, অবহেলা আর অযতেœ জেলার ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটি হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই এটি নতুনভাবে মেরামত করে শহরের ঐতিহ্য রক্ষা করা হোক।

 

শহরের সিও কলোনি এলাকার গোলাম মোরশেদ বুলবুল বলেন, ‘এখানে আগে সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে মিটিং, সভা-সমাবেশ হতো। জাঁকজমকপূর্ণ একটা অবস্থানে ছিল। বর্তমানে এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বলা যায়, এটি এখন ভুতুড়ে বাড়ি। এখানে নেশাখোরদের আখড়াসহ অসামাজিক কাজের কথা শোনা যায়। এই প্রতিষ্ঠানটি রক্ষা করতে গেলে নতুন আঙ্গিকে পুনর্নির্মাণ করতে হবে।’

 

স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে টাউন হলে আমরা নাচ-গান, নাটকসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখে এসেছি। কিন্তু এখন অবহেলিত ও অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। বর্তমানে এখানে খারাপ ছেলেরা এসে আড্ডা দেয়, নেশা করে। যেহেতু বাউন্ডারি ওয়াল ভাঙাচোরা, তাই চাই এটি ভেঙে নতুনভাবে চালু করা হোক।’

 

স্থানীয় বাসিন্দা কামরুজ্জামান প্রিন্স বলেন, ‘এই টাউন হলের সঙ্গে জয়পুরহাটের অনেক ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে। কিন্তু দীর্ঘদিন জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকায় এটি ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। তাই আমরা চাই, দ্রুত এটি পুনর্নির্মাণ করে আবারও আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে আসা হোক।’

 

টাউন হলের পাশের দোকানি ফেরদৌস হোসেন বলেন, ‘টাউন হল যখন চালু ছিল, তখন এখানে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হতো। এ কারণে অনেক মানুষজনও আসতেন। তখন দোকানে অনেক বিক্রি হতো। কিন্তু এখন বন্ধ থাকায় আর আগের মতো বিক্রি হয় না। এজন্য দ্রুত এই টাউন হলটি চালুর দাবি জানাচ্ছি।’

 

টাউন হলে দায়িত্বরত কেয়ারটেকার জামিল হোসেন বলেন, ‘২০২০ সাল থেকে এটি বন্ধ আছে। খোলামেলা জায়গা ও বাউন্ডারি ভাঙা থাকায় আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করি মাদকসেবী ও ছিঁচকে চোর আটকানোর জন্য।’

 

জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার মোহাম্মদ রায়হান বলেন, ‘১৯৮৪ সালে টাউন হলটি নির্মাণ করা হলেও বিভিন্ন সময় অব্যবস্থাপনার কারণে এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট থেকে বাউন্ডারি ওয়াল সংস্কারের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে টেন্ডার সম্পন্ন হলে বাউন্ডারির কাজ শুরু করতে পারব। এছাড়া যে ভবন রয়েছে সেটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করার কার্যক্রম আমরা নিয়েছি। পরবর্তী সময়ে এখানে বহুতল ভবন তৈরি করা হবে।’

শেয়ার করুন