এবিসি ন্যাশনাল নিউজ২৪ ইপেপার

ব্রেকিং নিউজঃ
ভূরুঙ্গামারীতে ইসলামী যুব আন্দোলনের আয়োজনে ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান  বগুড়ার তথাকথিত ‘মিনি জাফলংয়ে গোসল করতে গিয়ে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু বাগমারায় ছুরিকাঘাত ও গনপিটুনিতে নিহত-২  আহত ৬ পুলিশ সদস্য  আমতলী তে স্ত্রী কে কুপিয়ে হাত কর্তন করলো স্বামী। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার সাথে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বৈঠক আগামী পরশু রাম নবমীতে শান্তি শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ মমতার  নিষিদ্ধ ঘো‌ষিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেফতার ঈদ আনন্দেও অবহেলিত নয় মা ও শিশু স্বাস্থ্য: বটিয়াঘাটায় বিশেষ সেবা প্রদান শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবু’র সহযোগী সন্ত্রাসীদের অস্ত্র-গোলাবারুদ, বৈদেশিক মুদ্রা ও বিপুল পরিমাণ টাকাসহ গ্রেফতার জয়পুরহাটের টাউন হলটি যেন ভুতুড়ে বাড়ি

গান ও বৈঠার তালে বগুড়ার করতোয়া নদীতে নৌকা বাইচ দেখতে হাজারও মানুষের ঢল চ্যাম্পিয়ন উড়াল পঙ্খি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১৮:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ অক্টোবর ২০২৩ ১২৮ বার পড়া হয়েছে

 

মিরু হাসান, স্টাফ রিপোর্টার
নৌকা বাইচে বৈঠার তালে তালে বগুড়ার বুক চিড়ে বয়ে যাওয়া মৃতপ্রায় করতোয়া নদী যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছিল। জেলা পুলিশের আয়োজনে সোমবার দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতাকে ঘিরে নদীর দুই পাড়ে হাজারও মানুষের ঢল নামে।
সকাল থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে আসতে থাকে দর্শনার্থীরা। শহরে মালতিনগর এসপি ব্রিজ থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে বেজোড়া ব্রিজ পর্যন্ত নৌকাবাইচ দেখতে স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে ছুটে আসেন। বাড়িতে জামাই-মেয়ে ও আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে এক মিলন মেলায় পরিণত হয়। বাড়ির বউ-ঝিয়েরা কাজ শেষ করে নদীর পাড়ে এসে নৌকা বাইচ উপভোগ করেন। অন্যদিকে আনন্দ ও উল্লাসে মেতে উঠেন তরুণ-তরুণীরাও। নানা বয়সী নারী-পুরুষের মধ্যে শিশুর সংখ্যাও কম নয়। অনেকে নদীর তীরে জায়গা না পেয়ে পাশের ভবনের ছাদে নয়তো গাছের ডালে ওঠেন।
নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় বগুড়ার গাবতলী, সারিয়াকান্দি ও সোনাতলার ৮টি নৌকা অংশগ্রহণ করে। পরে চারটি দল উড়াল পঙ্খি, সততা, কিং খান এবং রাখে আল্লা মারে কে সেমিফাইনালে প্রতিযোগিতা করে। পরে উড়াল পঙ্খি বনাম সততার মধ্যে ফাইনাল রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়। এতে গাবতলী উপজেলার বালিয়াদিঘীর কালাইহাটা গ্রামের উড়াল পঙ্খি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
বাইচ দেখতে আসা রামিশা ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এই প্রথম নৌকা বাইচ খেলা দেখতে এসেছি। করতোয়াকে নদীই মনে হয়৷ মনে হয় একটি ড্রেন। কিন্তু আজ করতোয়া নদীকে খুব প্রাণবন্ত লাগছে। আমরা এমন প্রাণবন্ত করতোয়া দেখতে চাই।
নুরুল হক নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘নৌকা বাইচ উপলক্ষে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসেছি। অনেক দিন পর নৌকা বাইচ দেখলাম। সবাই মিলে উপভোগ করছি, খুব ভালো লাগছে। শহরের মধ্যে এখন তো তেমন নৌকা বাইচ দেখাই যায় না।’
নীলা খাতুন নামে এক গৃহবধূ বলেন, ‘এ করতোয়া নদীতে মেলাদিন পর নৌকা বাইচ খেলা হয়। নৌকা বাইচ উপলক্ষে এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বাড়িতে আত্মীয়স্বজনরা বেড়াতে এসেছেন। বাড়ির কাজ-কর্ম শেষ করে সবাই মিলে নদীর পাড়ে বসে নৌকা বাইচ উপভোগ করতে এসেছি।’
ষাটোর্ধ্ব হাসান আলী বলেন, ‘একসময় করতোয়া নদী দেখার মত ছিল। সেই নদীটা সবাই মিলে মেরে ফেলছে। আজ আনন্দ লাগছে আমাদের করতোয়া নদীতে নৌকা বাইচ হচ্ছে৷ আমরা চাই প্রতি বছর এই করতোয়া নদীতে নৌকা বাইচ হোক৷
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহযোগিতায় নদী বাঁচলে পরিবেশ বাঁচবে এই স্লোগানে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া ৬ আসনের সংসদ সদস্য রাগেবুল আহসান রিপু। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা: মোহাম্মাদ শফিউল আজম উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি রাগেবুল আহসান রিপু বলেন, ‘ আমাদের একটাই কাজ এখন করতোয়া নদীকে সঠিকভাবে রক্ষা করা। যত বড় শক্তিশালীই হোক তার বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে আমরা লড়াই করে করতোয়ার প্রাণ ফিরিয়ে আনবো।’
পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী বলেন, ‘সকলের সহযোগিতায় এর আগে করতোয়া নদীর কচুরিপানা অপসারণ করা হয়েছে। নদীর প্রবাহে যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী এই করতোয়া নদী। নদীর নাব্যতা ফেরাতে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনেক বড় ভূমিকা রাখবে। এছাড়াও করতোয়া নদী সংরক্ষণে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। সেটি অনুমোদন হয়ে গেছে। আমরা মনে করি নদী বাঁচলে পরিবেশ বাঁচবে। তাই এই নদী সংরক্ষণে আমাদের সবার সচেতন হতে হবে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বগুড়া পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহাদাৎ আলম ঝুনু, শাজাহানপুর উপজেলা চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন ছান্নু, বগুড়া সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি তৌফিক হাসান ময়না, জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
নৌকা বাইচ প্রতিয়োগিতায় বিজয়ী দলকে ট্রফিসহ একটি বড় ষাড় গরু এবং ২য় স্থান অর্জনকারী দল কে একটি বড় খাসি পুরস্কার দেয়া হয়।

শেয়ার করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

গান ও বৈঠার তালে বগুড়ার করতোয়া নদীতে নৌকা বাইচ দেখতে হাজারও মানুষের ঢল চ্যাম্পিয়ন উড়াল পঙ্খি

আপডেট সময় : ০৭:১৮:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ অক্টোবর ২০২৩

 

মিরু হাসান, স্টাফ রিপোর্টার
নৌকা বাইচে বৈঠার তালে তালে বগুড়ার বুক চিড়ে বয়ে যাওয়া মৃতপ্রায় করতোয়া নদী যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছিল। জেলা পুলিশের আয়োজনে সোমবার দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতাকে ঘিরে নদীর দুই পাড়ে হাজারও মানুষের ঢল নামে।
সকাল থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে আসতে থাকে দর্শনার্থীরা। শহরে মালতিনগর এসপি ব্রিজ থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে বেজোড়া ব্রিজ পর্যন্ত নৌকাবাইচ দেখতে স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে ছুটে আসেন। বাড়িতে জামাই-মেয়ে ও আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে এক মিলন মেলায় পরিণত হয়। বাড়ির বউ-ঝিয়েরা কাজ শেষ করে নদীর পাড়ে এসে নৌকা বাইচ উপভোগ করেন। অন্যদিকে আনন্দ ও উল্লাসে মেতে উঠেন তরুণ-তরুণীরাও। নানা বয়সী নারী-পুরুষের মধ্যে শিশুর সংখ্যাও কম নয়। অনেকে নদীর তীরে জায়গা না পেয়ে পাশের ভবনের ছাদে নয়তো গাছের ডালে ওঠেন।
নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় বগুড়ার গাবতলী, সারিয়াকান্দি ও সোনাতলার ৮টি নৌকা অংশগ্রহণ করে। পরে চারটি দল উড়াল পঙ্খি, সততা, কিং খান এবং রাখে আল্লা মারে কে সেমিফাইনালে প্রতিযোগিতা করে। পরে উড়াল পঙ্খি বনাম সততার মধ্যে ফাইনাল রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়। এতে গাবতলী উপজেলার বালিয়াদিঘীর কালাইহাটা গ্রামের উড়াল পঙ্খি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
বাইচ দেখতে আসা রামিশা ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এই প্রথম নৌকা বাইচ খেলা দেখতে এসেছি। করতোয়াকে নদীই মনে হয়৷ মনে হয় একটি ড্রেন। কিন্তু আজ করতোয়া নদীকে খুব প্রাণবন্ত লাগছে। আমরা এমন প্রাণবন্ত করতোয়া দেখতে চাই।
নুরুল হক নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘নৌকা বাইচ উপলক্ষে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসেছি। অনেক দিন পর নৌকা বাইচ দেখলাম। সবাই মিলে উপভোগ করছি, খুব ভালো লাগছে। শহরের মধ্যে এখন তো তেমন নৌকা বাইচ দেখাই যায় না।’
নীলা খাতুন নামে এক গৃহবধূ বলেন, ‘এ করতোয়া নদীতে মেলাদিন পর নৌকা বাইচ খেলা হয়। নৌকা বাইচ উপলক্ষে এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বাড়িতে আত্মীয়স্বজনরা বেড়াতে এসেছেন। বাড়ির কাজ-কর্ম শেষ করে সবাই মিলে নদীর পাড়ে বসে নৌকা বাইচ উপভোগ করতে এসেছি।’
ষাটোর্ধ্ব হাসান আলী বলেন, ‘একসময় করতোয়া নদী দেখার মত ছিল। সেই নদীটা সবাই মিলে মেরে ফেলছে। আজ আনন্দ লাগছে আমাদের করতোয়া নদীতে নৌকা বাইচ হচ্ছে৷ আমরা চাই প্রতি বছর এই করতোয়া নদীতে নৌকা বাইচ হোক৷
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহযোগিতায় নদী বাঁচলে পরিবেশ বাঁচবে এই স্লোগানে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া ৬ আসনের সংসদ সদস্য রাগেবুল আহসান রিপু। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা: মোহাম্মাদ শফিউল আজম উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি রাগেবুল আহসান রিপু বলেন, ‘ আমাদের একটাই কাজ এখন করতোয়া নদীকে সঠিকভাবে রক্ষা করা। যত বড় শক্তিশালীই হোক তার বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে আমরা লড়াই করে করতোয়ার প্রাণ ফিরিয়ে আনবো।’
পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী বলেন, ‘সকলের সহযোগিতায় এর আগে করতোয়া নদীর কচুরিপানা অপসারণ করা হয়েছে। নদীর প্রবাহে যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী এই করতোয়া নদী। নদীর নাব্যতা ফেরাতে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনেক বড় ভূমিকা রাখবে। এছাড়াও করতোয়া নদী সংরক্ষণে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। সেটি অনুমোদন হয়ে গেছে। আমরা মনে করি নদী বাঁচলে পরিবেশ বাঁচবে। তাই এই নদী সংরক্ষণে আমাদের সবার সচেতন হতে হবে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বগুড়া পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহাদাৎ আলম ঝুনু, শাজাহানপুর উপজেলা চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন ছান্নু, বগুড়া সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি তৌফিক হাসান ময়না, জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
নৌকা বাইচ প্রতিয়োগিতায় বিজয়ী দলকে ট্রফিসহ একটি বড় ষাড় গরু এবং ২য় স্থান অর্জনকারী দল কে একটি বড় খাসি পুরস্কার দেয়া হয়।

শেয়ার করুন