ঢাকা ১০:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

এবিসি ন্যাশনাল নিউজ২৪ ইপেপার

ব্রেকিং নিউজঃ
দৌলতপুরে সেফটিক ট্যাঙ্কের কাজে নেমে মাছ ব্যবসায়ী ও কৃষকের মৃত্যু ভূরুঙ্গামারীতে নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন: গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক এমপির নির্দেশে চনপাড়া মাদকবিরোধী মিছিল অনুষ্ঠিত বগুড়ায় শুরু হলো ৭ দিনব্যাপী বৃক্ষ মেলা! তানোরে অটো গাড়ি চুরি করতে এসে মোটরসাইকেল রেখে পালালো চোর যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরি করুন : প্রধানমন্ত্রী বগুড়ায় ড. হাসান মাহমুদ, কারও কারণে আ’লীগে কালো দাগ পড়লে তাকে ছেঁটে দিতে হবে, কোটা আন্দোলনের নামে ভোগান্তি হলে কঠোর ব্যবস্থা ব্যবসায়ীর মৃত্যু হলে পরিবারের দায়িত্ব নেবেন শাকিব পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় ৩ নারীসহ আহত-৪

🔤 কেনো খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অনন্য ‼️ 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৫:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২২ ৪০ বার পড়া হয়েছে

প্রনব মন্ডলঃ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।

স্বপ্ন যখন আকাশ ছোয়ার” কিন্তু এই স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে কয়জন বা পারে সেটা ছুয়ে দেখতে? আমরা সবাই সফল হতে চাই, তবে সফল হতে পারি ক’জন? আর যারা এই স্বপ্নকে ছুয়ে দেখতে পারে তারাই আসল স্বপ্নবাজ;তারাই স্বপ্নেরসারথী। সদ্য কলেজ গন্ডী পার করে আসা তরুণ শিক্ষার্থীরা দিনকে রাত- রাতকে টেনে আরও দীর্ঘ দেয় – যার একমাত্র লক্ষ্য থাকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সারথী হওয়ার। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বিশ্ব ঐতিহ্যের ‘ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট’ সুন্দরবন আধ্যুষিত বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম।

 

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সক্রীয়তা ও বিশেষ বৈশিষ্ট্য :

 

রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস ঃ বাংলাদেশের একমাত্র সেশনজট,সন্ত্রাস ও ছাত্ররাজনীতি মুক্ত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। ২৭বছরে প্রতিষ্ঠানটি রাজনৈতিক কোনো সহিংসতায় একদিনের জন্য ও বন্ধ থাকেনি। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এক ভালবাসার নাম, যেখানে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে স্পর্শ করেনি রাজনীতির কালো ধোয়া,যেখানে ছাত্র-ছাত্রীদের দুগ্রুপের মধ্যে সংঘাতের কারণে হঠাৎ করে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ক্যাম্পাস ছাড়তে হয় না, যেখানে ক্যাম্পাস অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ হওয়ার শংকা থাকে না, ক্যাম্পাসে রাত বিরাতে শিক্ষার্থীরা আপন মনে ঘুরতে পারে।

 

সেশনজটমুক্ত ক্যাম্পাসঃ

বলতে গেলে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এই দিক থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অনন্য ও অসাধারণ। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডার( ক্লাস রুটিন, সিলেবাস, পরীক্ষার সময়সূচি) অনুযায়ী সবকিছু পরিচালিত হয়। যতই সহিংসতা হরতাল-অবরোধ হোক না কেন প্রতিবছর পহেলা জানুযারী থেকে ক্লাস শুরু হয়ে একত্রিশ ডিসেম্বরের ভিতরে বছরের দুইটা সেমিস্টার সম্পন্ন হয়। নির্ধারিত ৪ বছরের ভিতর অনার্স ডিগ্রী শেষ হওয়ার মত সুযোগ কে বা হাত ছাড়া করতে চাইবে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণরূপে রাগিং মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া রাজনীতি না থাকায় কোনো দলের নিয়মে নয় বরং একাডেমিক রেজাল্ট ও পারিবারিক অবস্থা বিবেচনা করে আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের সিট দেওয়া হয় এবং ছাত্রীদের প্রথম টার্মের মধ্যেই সাধারনত সিট দিয়ে দেওয়া হয়।

 

একাডেমিক ও চাকরির সুবিধাঃ

বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রসাশন , আর্কিটেকচার , হিউমান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট , সি.এস.ই, ই.সি.ই, ফার্মেসি এর মত বহুল আকাঙ্ক্ষিত এবং পরিচিত বিষয় যেমন আছে তেমনি প্রিন্ট মেকিং, আইন, ফরেস্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজি, এগ্রো টেকনোলজি, হিস্টোরি এন্ড সিভিলাইজেশন এর মত অন্য ধরণের বিষয় ও আছে পড়ার জন্য। প্রতিটি ডিসিপ্লিন এ শেষ বর্ষের ছাত্র-ছাত্রীদের দেয় থিসিস করার সুযোগ। শুধু তাই না, ল্যাব এবং ক্লাসরুমে হাতে কলমে শেখার অবাধ সুযোগের পাশাপাশি মনোরঞ্জনের জন্য দেশ-বিদেশে সেশনাল ট্যুরের ব্যবস্থা তো রয়েছেই। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা গুগল কিংবা মাইক্রোসফটে চাকরি পেলে দেশের প্রথম সারীর সবগুলা পত্রিকার হেডলাইনে চলে আসে।

অথচ অনেকেই জানেন না বাংলাদেশে গুগলের প্রচার ও প্রসার হয়েছে যার হাত ধরে সে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়েরই একজন গ্রেজুয়েট। গুগল, মাইক্রোসফট, ও ইনটেল এর মত বড় বড় কোম্পানিতে স্ব-গৌরবে কাজ করছে এখানকার সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়াররা।

 

সৌন্দর্য্য ও চঞ্চলতার ক্যাম্পাসঃ

বহমান নদীরধারা সচল রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে দিয়ে তিনটি আবাসিক হলের চঞ্চলতা একধারায় বহন করে প্রকৃতির রূপ ধরে রেখে “ময়ূর লেক” । মুক্তিযুদ্ধের ও স্বাধীনতার আবেগকে বাড়িয়ে দিয়েছে “অদম্য বাংলা” ও ” বধ্যভূমি”র সৌন্দর্য্য । হিম হিম শীতের সকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃতি যেন জীবনান্দদাসের সেই কল্পনার সমস্ত বাংলার রূপ ধারন করে যার প্রফুল্লতা মদ্য পানে মাতালকেও ছাড়িয়ে যায়। খুবি’র প্রধান রাস্তাটি ধরে সামনে এগিয়ে গেলে ডান দিকে চোখে পরবে খুবিয়ান’দের আড্ডা দেবার প্রথম স্থান ‘ক্যাফেটেরিয়া’।

এর ঠিক উল্টো পাশেই রয়েছে ‘মুক্তমঞ্চ’ এবং ‘শহীদ মিনার’ । ক্লাসের ফাঁকে “ভাবীর দোকানে”র চায়ের আড্ডা, “তপন দাদা”র সেই এক এক পুরী যেন এক একটি ইতিহাস। বিকেল পাঁচটায় যখন ক্লাস শেষ, শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ছুটে চলে অন্তিমপথে। এমন সময় ক্যাম্পাস সূর্য্যিমামার লাল আভায় ডুবতে শুরু করে, ঠিক তখনই দাঁড়িয়ে থাকা সোডিয়াম লাইটগুলো মিটি আলো দিতে শুরু করে- এ যেন এক প্রাণের সঞ্চার।

রাত যত বেড়ে যায় আবাসিক হলগুলোর চঞ্চলতা তত বেড়ে যায়। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া থেকে আগত শিক্ষার্থীরা এক হয়ে থাকে – বন্ধন আবদ্ধ হয় এক সুতোয়। যা কবি সুনির্মল বসুর “বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর সবার আমি ছাত্র; নানান ভাবে নতুন জিনিস শিখছি দিবারাত্র”- পঙক্তিটির গ্রহনযোগ্যতা বাড়িয়ে দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে চঞ্চলতার কেন্দ্র মাঠ যেখানে শিক্ষক -সিনিয়র -জুনিয়ার খেলা করে এক পরিবারের হয়ে। পাশেই রয়েছে খান বাহাদুর আহসানউল্লাহ হলের পুকুর। পুকুরের মিহি পরিবেশে বসে মোস্ট জুনিয়র – ইমিডিয়েট সিনিয়রের মিলন মেলা, যেখানে দিন-রাত একাকার করে সিনিয়র জুনিয়র সম্পর্ক ঝালাই করে নিতে পারে নিদ্বিধায়।

উৎসবের প্রাণঃ

“বার মাসে তের পার্বণ”- কথাটির যৌক্তিকতা হয়তো খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটু বেশী প্রযোজ্য। বাঙালীর ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে রাখতে বাঙ্গালীপনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ও কম যায় না। দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ পহেলা বৈশাখ উৎসবের সাথে পালন করা হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। সাথে থাকে চৈত্র সংক্রান্তির উৎযাপন( ঘুড়ি উৎসব, লাঠি খেলা, সাপ খেলা, মোরগ লড়াই)। তাছাড়া র‍্যাগ ডে,কালার ফেস্ট, পিঠা উৎসব, বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের নবীনদের ববণ উৎসব, দিবস উপলক্ষ্যে ও সংগঠনগুলোর প্রোগাম তো লেগেই থাকে সারা বছর।

 

লেখক _শিক্ষার্থী প্রণব মন্ডল, ইংরেজি ডিসিপ্লিন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।

শেয়ার করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

🔤 কেনো খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অনন্য ‼️ 

আপডেট সময় : ১০:২৫:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২২

প্রনব মন্ডলঃ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।

স্বপ্ন যখন আকাশ ছোয়ার” কিন্তু এই স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে কয়জন বা পারে সেটা ছুয়ে দেখতে? আমরা সবাই সফল হতে চাই, তবে সফল হতে পারি ক’জন? আর যারা এই স্বপ্নকে ছুয়ে দেখতে পারে তারাই আসল স্বপ্নবাজ;তারাই স্বপ্নেরসারথী। সদ্য কলেজ গন্ডী পার করে আসা তরুণ শিক্ষার্থীরা দিনকে রাত- রাতকে টেনে আরও দীর্ঘ দেয় – যার একমাত্র লক্ষ্য থাকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সারথী হওয়ার। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বিশ্ব ঐতিহ্যের ‘ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট’ সুন্দরবন আধ্যুষিত বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম।

 

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সক্রীয়তা ও বিশেষ বৈশিষ্ট্য :

 

রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস ঃ বাংলাদেশের একমাত্র সেশনজট,সন্ত্রাস ও ছাত্ররাজনীতি মুক্ত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। ২৭বছরে প্রতিষ্ঠানটি রাজনৈতিক কোনো সহিংসতায় একদিনের জন্য ও বন্ধ থাকেনি। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এক ভালবাসার নাম, যেখানে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে স্পর্শ করেনি রাজনীতির কালো ধোয়া,যেখানে ছাত্র-ছাত্রীদের দুগ্রুপের মধ্যে সংঘাতের কারণে হঠাৎ করে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ক্যাম্পাস ছাড়তে হয় না, যেখানে ক্যাম্পাস অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ হওয়ার শংকা থাকে না, ক্যাম্পাসে রাত বিরাতে শিক্ষার্থীরা আপন মনে ঘুরতে পারে।

 

সেশনজটমুক্ত ক্যাম্পাসঃ

বলতে গেলে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এই দিক থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অনন্য ও অসাধারণ। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডার( ক্লাস রুটিন, সিলেবাস, পরীক্ষার সময়সূচি) অনুযায়ী সবকিছু পরিচালিত হয়। যতই সহিংসতা হরতাল-অবরোধ হোক না কেন প্রতিবছর পহেলা জানুযারী থেকে ক্লাস শুরু হয়ে একত্রিশ ডিসেম্বরের ভিতরে বছরের দুইটা সেমিস্টার সম্পন্ন হয়। নির্ধারিত ৪ বছরের ভিতর অনার্স ডিগ্রী শেষ হওয়ার মত সুযোগ কে বা হাত ছাড়া করতে চাইবে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণরূপে রাগিং মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া রাজনীতি না থাকায় কোনো দলের নিয়মে নয় বরং একাডেমিক রেজাল্ট ও পারিবারিক অবস্থা বিবেচনা করে আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের সিট দেওয়া হয় এবং ছাত্রীদের প্রথম টার্মের মধ্যেই সাধারনত সিট দিয়ে দেওয়া হয়।

 

একাডেমিক ও চাকরির সুবিধাঃ

বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রসাশন , আর্কিটেকচার , হিউমান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট , সি.এস.ই, ই.সি.ই, ফার্মেসি এর মত বহুল আকাঙ্ক্ষিত এবং পরিচিত বিষয় যেমন আছে তেমনি প্রিন্ট মেকিং, আইন, ফরেস্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজি, এগ্রো টেকনোলজি, হিস্টোরি এন্ড সিভিলাইজেশন এর মত অন্য ধরণের বিষয় ও আছে পড়ার জন্য। প্রতিটি ডিসিপ্লিন এ শেষ বর্ষের ছাত্র-ছাত্রীদের দেয় থিসিস করার সুযোগ। শুধু তাই না, ল্যাব এবং ক্লাসরুমে হাতে কলমে শেখার অবাধ সুযোগের পাশাপাশি মনোরঞ্জনের জন্য দেশ-বিদেশে সেশনাল ট্যুরের ব্যবস্থা তো রয়েছেই। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা গুগল কিংবা মাইক্রোসফটে চাকরি পেলে দেশের প্রথম সারীর সবগুলা পত্রিকার হেডলাইনে চলে আসে।

অথচ অনেকেই জানেন না বাংলাদেশে গুগলের প্রচার ও প্রসার হয়েছে যার হাত ধরে সে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়েরই একজন গ্রেজুয়েট। গুগল, মাইক্রোসফট, ও ইনটেল এর মত বড় বড় কোম্পানিতে স্ব-গৌরবে কাজ করছে এখানকার সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়াররা।

 

সৌন্দর্য্য ও চঞ্চলতার ক্যাম্পাসঃ

বহমান নদীরধারা সচল রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে দিয়ে তিনটি আবাসিক হলের চঞ্চলতা একধারায় বহন করে প্রকৃতির রূপ ধরে রেখে “ময়ূর লেক” । মুক্তিযুদ্ধের ও স্বাধীনতার আবেগকে বাড়িয়ে দিয়েছে “অদম্য বাংলা” ও ” বধ্যভূমি”র সৌন্দর্য্য । হিম হিম শীতের সকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃতি যেন জীবনান্দদাসের সেই কল্পনার সমস্ত বাংলার রূপ ধারন করে যার প্রফুল্লতা মদ্য পানে মাতালকেও ছাড়িয়ে যায়। খুবি’র প্রধান রাস্তাটি ধরে সামনে এগিয়ে গেলে ডান দিকে চোখে পরবে খুবিয়ান’দের আড্ডা দেবার প্রথম স্থান ‘ক্যাফেটেরিয়া’।

এর ঠিক উল্টো পাশেই রয়েছে ‘মুক্তমঞ্চ’ এবং ‘শহীদ মিনার’ । ক্লাসের ফাঁকে “ভাবীর দোকানে”র চায়ের আড্ডা, “তপন দাদা”র সেই এক এক পুরী যেন এক একটি ইতিহাস। বিকেল পাঁচটায় যখন ক্লাস শেষ, শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ছুটে চলে অন্তিমপথে। এমন সময় ক্যাম্পাস সূর্য্যিমামার লাল আভায় ডুবতে শুরু করে, ঠিক তখনই দাঁড়িয়ে থাকা সোডিয়াম লাইটগুলো মিটি আলো দিতে শুরু করে- এ যেন এক প্রাণের সঞ্চার।

রাত যত বেড়ে যায় আবাসিক হলগুলোর চঞ্চলতা তত বেড়ে যায়। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া থেকে আগত শিক্ষার্থীরা এক হয়ে থাকে – বন্ধন আবদ্ধ হয় এক সুতোয়। যা কবি সুনির্মল বসুর “বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর সবার আমি ছাত্র; নানান ভাবে নতুন জিনিস শিখছি দিবারাত্র”- পঙক্তিটির গ্রহনযোগ্যতা বাড়িয়ে দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে চঞ্চলতার কেন্দ্র মাঠ যেখানে শিক্ষক -সিনিয়র -জুনিয়ার খেলা করে এক পরিবারের হয়ে। পাশেই রয়েছে খান বাহাদুর আহসানউল্লাহ হলের পুকুর। পুকুরের মিহি পরিবেশে বসে মোস্ট জুনিয়র – ইমিডিয়েট সিনিয়রের মিলন মেলা, যেখানে দিন-রাত একাকার করে সিনিয়র জুনিয়র সম্পর্ক ঝালাই করে নিতে পারে নিদ্বিধায়।

উৎসবের প্রাণঃ

“বার মাসে তের পার্বণ”- কথাটির যৌক্তিকতা হয়তো খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটু বেশী প্রযোজ্য। বাঙালীর ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে রাখতে বাঙ্গালীপনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ও কম যায় না। দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ পহেলা বৈশাখ উৎসবের সাথে পালন করা হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। সাথে থাকে চৈত্র সংক্রান্তির উৎযাপন( ঘুড়ি উৎসব, লাঠি খেলা, সাপ খেলা, মোরগ লড়াই)। তাছাড়া র‍্যাগ ডে,কালার ফেস্ট, পিঠা উৎসব, বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের নবীনদের ববণ উৎসব, দিবস উপলক্ষ্যে ও সংগঠনগুলোর প্রোগাম তো লেগেই থাকে সারা বছর।

 

লেখক _শিক্ষার্থী প্রণব মন্ডল, ইংরেজি ডিসিপ্লিন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।

শেয়ার করুন