ঢাকা ১০:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

এবিসি ন্যাশনাল নিউজ২৪ ইপেপার

ব্রেকিং নিউজঃ

লালপুরে বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদে স্থানীয়দের মানববন্ধন

লালপুর(নাটোর)প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:১৭:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৪ ৩৯ বার পড়া হয়েছে

নাটোরের লালপুরে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদ ও বিদ্যালয়টির পূর্বের নাম পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। আজ শুক্রবার বাদ জুম্মা উপজেলার ২ং ঈশ্বরদী ইউনিয়নের চামটিয়া ভাটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

বিদ্যালয়টির পূর্বের নাম চামটিয়া ভাটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যা পরিবর্তন করে সবুজ ছায়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় করা হয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন—ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ইয়াছিন আলী, গৌরীপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. হযরত আলী, চামটিয়া ভাটিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এস এম সি সভাপতি মো. শাহজাহান আলী, ২ নং ঈশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. মিজানুর রহমান বাচ্চু, পদ্মা কিন্ডার গার্টেনের প্রধান শিক্ষক মো. রাজিব হোসেন প্রমুখ।

পদ্মা কিন্ডার গার্টেনের প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো. রাজিব হোসেন বলেন, ‘সরকারিভাবে নেতিবাচক ভাবার্থ থাকা ও শ্রুতিকটু নাম পরিবর্তনের কথা বলা হলেও চামটিয়া ভাটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামটি কোনোভাবে তেমন নয়।’

মো. রাজিব হোসেন আরও বলেন, ‘১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তনের জন্য লিখিত মতামত চাইলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি নাম পরিবর্তন না করার জন্য রেজুলেশন আকারে শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানান। কিন্তু সবার মতামতকে অগ্রাহ্য করে নাম পাল্টে সবুজ ছায়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় করা হয়েছে। এ নাম বিদ্যালয়ের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আমরা অবিলম্বে চামটিয়া ভাটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামটি পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছি।’

২ নং ঈশ্বরদী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াছিন আলী বলেন, ‘আমরা কেউ জানতে পারি নাই চামটিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।’ বিদ্যালয়টির নাম বিনা কারণে পরিবর্তন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী দুটি গ্রাম চামটিয়া ও ভাটপাড়া। এভাবে হঠাৎ করে দুই গ্রামের নামে এই বিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করায় উভয় গ্রামের মানুষ হতাশ হয়েছে। বিদ্যালয়টির নাম পুনর্বহাল করার দাবি জানান তিনি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাহাজান আলী বলেন, গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৩ প্রকাশিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৪ ডিসেম্বর ২০২৩ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করতে চাই না মর্মে একটি রেজুলেশন উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে জমা দেওয়া হয়।

শাহাজান আলী আরও বলেন, ‘রেজুলেশন জমা দেওয়ার পরও গত ৩ এপ্রিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিদ্যালয়-২ শাখা অনুযায়ী আমাদের বিদ্যালয়ের নাম চামটিয়া ভাটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিবর্তন করে সবুজ ছায়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে পরিপত্র জারি করে। যেহেতু আমরা পাশাপাশি দুই গ্রামের মানুষসহ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষকবৃন্দ নাম পরিবর্তন চাই না, তাই বিদ্যালয়ের পূর্বের নামটি বহাল রাখার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।’

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাসনুভা আলমের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলেয়া ফেরদৌসী বলেন, ‘আমরা শুধুমাত্র চামটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের জন্য সুপারিশ করেছিলাম। কিন্তু চামটিয়া ভাটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ছয়টি বিদ্যালয়ের নাম কীভাবে পরিবর্তন হলো তা আমার জানা নেই।’

শেয়ার করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

লালপুরে বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদে স্থানীয়দের মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০৯:১৭:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৪

নাটোরের লালপুরে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদ ও বিদ্যালয়টির পূর্বের নাম পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। আজ শুক্রবার বাদ জুম্মা উপজেলার ২ং ঈশ্বরদী ইউনিয়নের চামটিয়া ভাটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

বিদ্যালয়টির পূর্বের নাম চামটিয়া ভাটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যা পরিবর্তন করে সবুজ ছায়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় করা হয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন—ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ইয়াছিন আলী, গৌরীপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. হযরত আলী, চামটিয়া ভাটিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এস এম সি সভাপতি মো. শাহজাহান আলী, ২ নং ঈশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. মিজানুর রহমান বাচ্চু, পদ্মা কিন্ডার গার্টেনের প্রধান শিক্ষক মো. রাজিব হোসেন প্রমুখ।

পদ্মা কিন্ডার গার্টেনের প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো. রাজিব হোসেন বলেন, ‘সরকারিভাবে নেতিবাচক ভাবার্থ থাকা ও শ্রুতিকটু নাম পরিবর্তনের কথা বলা হলেও চামটিয়া ভাটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামটি কোনোভাবে তেমন নয়।’

মো. রাজিব হোসেন আরও বলেন, ‘১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তনের জন্য লিখিত মতামত চাইলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি নাম পরিবর্তন না করার জন্য রেজুলেশন আকারে শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানান। কিন্তু সবার মতামতকে অগ্রাহ্য করে নাম পাল্টে সবুজ ছায়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় করা হয়েছে। এ নাম বিদ্যালয়ের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আমরা অবিলম্বে চামটিয়া ভাটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামটি পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছি।’

২ নং ঈশ্বরদী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াছিন আলী বলেন, ‘আমরা কেউ জানতে পারি নাই চামটিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।’ বিদ্যালয়টির নাম বিনা কারণে পরিবর্তন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী দুটি গ্রাম চামটিয়া ও ভাটপাড়া। এভাবে হঠাৎ করে দুই গ্রামের নামে এই বিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করায় উভয় গ্রামের মানুষ হতাশ হয়েছে। বিদ্যালয়টির নাম পুনর্বহাল করার দাবি জানান তিনি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাহাজান আলী বলেন, গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৩ প্রকাশিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৪ ডিসেম্বর ২০২৩ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করতে চাই না মর্মে একটি রেজুলেশন উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে জমা দেওয়া হয়।

শাহাজান আলী আরও বলেন, ‘রেজুলেশন জমা দেওয়ার পরও গত ৩ এপ্রিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিদ্যালয়-২ শাখা অনুযায়ী আমাদের বিদ্যালয়ের নাম চামটিয়া ভাটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিবর্তন করে সবুজ ছায়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে পরিপত্র জারি করে। যেহেতু আমরা পাশাপাশি দুই গ্রামের মানুষসহ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষকবৃন্দ নাম পরিবর্তন চাই না, তাই বিদ্যালয়ের পূর্বের নামটি বহাল রাখার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।’

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাসনুভা আলমের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলেয়া ফেরদৌসী বলেন, ‘আমরা শুধুমাত্র চামটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের জন্য সুপারিশ করেছিলাম। কিন্তু চামটিয়া ভাটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ছয়টি বিদ্যালয়ের নাম কীভাবে পরিবর্তন হলো তা আমার জানা নেই।’

শেয়ার করুন