ঢাকা ০৮:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

এবিসি ন্যাশনাল নিউজ২৪ ইপেপার

ভোগ্যপণ্যের মুল্য নিয়ে সাধারণ মানুষের বেহাল দশা 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪১:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর ২০২২ ৪৬ বার পড়া হয়েছে

কামরুল ইসলাম চট্টগ্রাম

ভোগ্যপণ্যের মূল্য নিয়ে বেহাল দশায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ। খরচ কমাতে শহর চাড়ছেন অনেকে পরিবারের বাজার খরচ কমাতে সদস্যদের পাঠিয়ে দিচ্ছে গ্রামে অনেকে বেচালার বাসা বাড়া নিচ্ছেন । আয়ের সাথে ব্যয়ের ব্যবধান দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় সংসার চালাতে হিমসিম কেয়ে যাচ্ছে অধিকাংশ পরিবার । অন্যদিকে এই অসহায় পরিবারের গুলোর কান্না দেখার যেন কেউ নেই। আলু ভর্তা, ডিম-ডাল খাবে সেখানে বেড়েছে খরচ। ডিম এক ডজন কিনতে হচ্ছে ১৪৫ টাকা, মাঝারি মানের মসুর ডালের কেজি ১০৫ টাকা এবং আলুর কেজি ৩০ টাকা। এছাড়া ঘর ভাড়া, ছেলে মেয়েদের পড়ালেখার খরচ এবং ওষুধ খরচ তো আছেই। কাজীর দেউড়ি মোড়ে কথা হয় দিনমজুর আলী আহম্মদের সাথে। তিনি জানান, ঘরে বউ বাচ্চাসহ ৭ জনের সংসার। এখন আয় কমে গেছে। এরমধ্যে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। নিজে একবেলা কম খেয়ে হলেও বাচ্চাদের খাওয়াতে হচ্ছে।

 

বেসরকারি চাকরিজীবী ফজলুল করিম বলেন, বেতন পাই ১৮ হাজার টাকা। এরমধ্যে বাসা ভাড়া, গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতেই খরচ হয়ে যায় ১০ হাজার টাকা। বাকি টাকায় সংসার চালাতে কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে ধারদেনা করে চলতে হচ্ছে। এখন সবার খরচ বাড়ছে, ধারদেনা পাওয়াটাও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

 

বেসরকারি স্কুল শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, স্কুল থেকে যে বেতন পাই, এতে সংসার চলে না। তাই বাধ্য হয়ে টিউশন করতে হয়। তারপরেও যে আয় হয় তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। বাজারে চাল, ডাল, তেল-চিনি থেকে শুরু করে এমন কোনো পণ্য নেই যে দাম বাড়েনি। এছাড়া ৫০-৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। এভাবে চলতে থাকলে এ বছর শেষে পরিবারের সদস্যদের গ্রামে পাঠিয়ে দিতে হবে।

 

পাইকারী ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোগ্যপণ্যের দাম আগের চেয়ে বেড়েছে। এছাড়া এখন ঋণপত্র (এলসি) খোলার পরিমাণ কমে যাওয়ায় ভোগ্যপণ্যের আমদানি কমে গেছে। এটাও দাম বাড়ার অন্যতম কারণ। অন্যদিকে ডিজেলের দাম বাড়ানোর কারণে আগেই বেড়েছে পরিবহন খরচ। অপরদিকে খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিমত, পাইকারদের থেকে একটা নির্দিষ্ট মুনাফায় খুচরা ব্যবসায়ীরা পণ্য বিক্রি করে। বর্তমানে দোকান ভাড়া, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও পরিবহন খরচ বেড়েছে। আমাদের অতি মুনাফা করার সুযোগ নেই।

 

ক্যাব, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এসএম নাজের হোসেন গনমাধ্যম কে বলেন, নিত্যপণ্যের এই ঊর্ধ্বগতিতে সবচেয়ে বিপদে আছে মধ্যবিত্ত শ্রেণী। সীমিত আয় দিয়ে সংসার চালানোটা দুরূহ হয়ে পড়েছে। বাজারে এমন কোনো পণ্য নেই যে দাম বাড়েনি। তেল-ডাল ও চিনির বাজার লাগামহীন হয়ে পড়েছে। এছাড়া থেমে থেমে চালের বাজারও বেড়েছে। অথচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন একটা নজরদারি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এতে ব্যবসায়ীরা নিজেদের খেয়াল খুশিমতো পণ্যের দাম বৃদ্ধি করে থাকে।

শেয়ার করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ভোগ্যপণ্যের মুল্য নিয়ে সাধারণ মানুষের বেহাল দশা 

আপডেট সময় : ১১:৪১:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর ২০২২

কামরুল ইসলাম চট্টগ্রাম

ভোগ্যপণ্যের মূল্য নিয়ে বেহাল দশায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ। খরচ কমাতে শহর চাড়ছেন অনেকে পরিবারের বাজার খরচ কমাতে সদস্যদের পাঠিয়ে দিচ্ছে গ্রামে অনেকে বেচালার বাসা বাড়া নিচ্ছেন । আয়ের সাথে ব্যয়ের ব্যবধান দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় সংসার চালাতে হিমসিম কেয়ে যাচ্ছে অধিকাংশ পরিবার । অন্যদিকে এই অসহায় পরিবারের গুলোর কান্না দেখার যেন কেউ নেই। আলু ভর্তা, ডিম-ডাল খাবে সেখানে বেড়েছে খরচ। ডিম এক ডজন কিনতে হচ্ছে ১৪৫ টাকা, মাঝারি মানের মসুর ডালের কেজি ১০৫ টাকা এবং আলুর কেজি ৩০ টাকা। এছাড়া ঘর ভাড়া, ছেলে মেয়েদের পড়ালেখার খরচ এবং ওষুধ খরচ তো আছেই। কাজীর দেউড়ি মোড়ে কথা হয় দিনমজুর আলী আহম্মদের সাথে। তিনি জানান, ঘরে বউ বাচ্চাসহ ৭ জনের সংসার। এখন আয় কমে গেছে। এরমধ্যে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। নিজে একবেলা কম খেয়ে হলেও বাচ্চাদের খাওয়াতে হচ্ছে।

 

বেসরকারি চাকরিজীবী ফজলুল করিম বলেন, বেতন পাই ১৮ হাজার টাকা। এরমধ্যে বাসা ভাড়া, গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতেই খরচ হয়ে যায় ১০ হাজার টাকা। বাকি টাকায় সংসার চালাতে কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে ধারদেনা করে চলতে হচ্ছে। এখন সবার খরচ বাড়ছে, ধারদেনা পাওয়াটাও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

 

বেসরকারি স্কুল শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, স্কুল থেকে যে বেতন পাই, এতে সংসার চলে না। তাই বাধ্য হয়ে টিউশন করতে হয়। তারপরেও যে আয় হয় তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। বাজারে চাল, ডাল, তেল-চিনি থেকে শুরু করে এমন কোনো পণ্য নেই যে দাম বাড়েনি। এছাড়া ৫০-৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। এভাবে চলতে থাকলে এ বছর শেষে পরিবারের সদস্যদের গ্রামে পাঠিয়ে দিতে হবে।

 

পাইকারী ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোগ্যপণ্যের দাম আগের চেয়ে বেড়েছে। এছাড়া এখন ঋণপত্র (এলসি) খোলার পরিমাণ কমে যাওয়ায় ভোগ্যপণ্যের আমদানি কমে গেছে। এটাও দাম বাড়ার অন্যতম কারণ। অন্যদিকে ডিজেলের দাম বাড়ানোর কারণে আগেই বেড়েছে পরিবহন খরচ। অপরদিকে খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিমত, পাইকারদের থেকে একটা নির্দিষ্ট মুনাফায় খুচরা ব্যবসায়ীরা পণ্য বিক্রি করে। বর্তমানে দোকান ভাড়া, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও পরিবহন খরচ বেড়েছে। আমাদের অতি মুনাফা করার সুযোগ নেই।

 

ক্যাব, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এসএম নাজের হোসেন গনমাধ্যম কে বলেন, নিত্যপণ্যের এই ঊর্ধ্বগতিতে সবচেয়ে বিপদে আছে মধ্যবিত্ত শ্রেণী। সীমিত আয় দিয়ে সংসার চালানোটা দুরূহ হয়ে পড়েছে। বাজারে এমন কোনো পণ্য নেই যে দাম বাড়েনি। তেল-ডাল ও চিনির বাজার লাগামহীন হয়ে পড়েছে। এছাড়া থেমে থেমে চালের বাজারও বেড়েছে। অথচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন একটা নজরদারি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এতে ব্যবসায়ীরা নিজেদের খেয়াল খুশিমতো পণ্যের দাম বৃদ্ধি করে থাকে।

শেয়ার করুন