ঢাকা ১০:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

এবিসি ন্যাশনাল নিউজ২৪ ইপেপার

ব্রেকিং নিউজঃ

আজ বাঙালি নারী জাতির জাগরণের জন্ম ও মৃত্যু দিবস

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩০:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২২ ৪৫ বার পড়া হয়েছে

মোঃওবাইদুল হক স্টাফ রিপোর্টার যশোর।।

মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রধুত বলা হয় রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনকে। তিনি বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের মূলমন্ত্র কাজ করেন। বেগম রোকেয়া সাক্ষাত হোসেন বাঙালি নারী জাতিকে অন্ধকার জগৎ থেকে আলোর পথ দেখান। আজ মুসলিম নারী জাতি যে আলোর পথ দেখেছেন তা একমাত্র বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে। এই আলোর পথ দেখতে পেয়েছেন শুধু তারই কারণে।তিনি যদি এই মুসলিম জাতিকে জাগ্রত করে না তুলতেন তাহলেই নারীজাতি সেই অন্ধকার আসন্ন জীবন যাপন করতে হতো। বেগম রোকেয় সাখাওয়াত হোসেন বাঙালি নারী জাতিকে আজ আলোর সন্ধান দেখেন তারই মাধ্যমে।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বাঙালি নারী জাগরণে বিশেষত মুসলিম নারী জাগরণের ক্ষেত্রে এক বিষ্ময় নারী। ১৮৮০-১৯৩২ মাত্র ৫২ বছর আয়ুষ্কালের মহীয়সী এই নারীর জন্ম-মৃত্যু উভয় ৯ ডিসেম্বর। নিজের কর্মের মাধ্যমে বাঙালি মুসলিম নারীদের কাছে আজীবন আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবেন। তাঁর ত্যাগ ও মহিমা তুলনা করার জন্য হলেও বাঙালি নারীর মধ্যে দ্বিতীয়টা খুজে পাওয়া সত্যি অসাধ্য। আঠারো বছর বয়সে প্রায় ৪০ বছর বয়সী বিপত্নীক অবাঙালি সাখাওয়াত হোসেনকে বিয়ে করেও তিনি সুখী হয়েছিলেন স্বামীর কুসংস্কার মুক্ত উদার, শিক্ষানুরাগী মনটির স্পর্শ পেয়ে । বিয়ের মাত্র দশ বছর পর ১৯০৯ সালের ৩মে তাঁর স্বামী মৃত্যুবরণ করেন। স্বামীর গুণে তিনি এতটাই মুগ্ধ ছিলেন যে স্বামীর রূপ বা যৌবনের অভাবে এক বিন্দু খেদ তাঁর মনে কখনো জন্মে নি। সাখাওয়াত সাহেব মৃত্যুর পূর্বে তাঁর সঞ্চিত ৭০(সত্তর) হাজার টাকার ১০ (দশ) হাজার টাকা স্কুল চালাবার জন্য আলাদা করে দেন। স্কুলের দশ হাজার টাকা যে ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছিল সে ব্যাংক দেউলিয়া হলে শুভাকাঙ্ক্ষী সহকর্মীরা নিরাশায় ভেঙে পড়েন। কিন্তু রোকেয়া দমে যাবার মানুষ ছিলেন না। নিজের টাকা থেকে তিনি আরো ত্রিশ হাজার টাকা স্কুলের জন্য দান করেন। স্কুল পরিচারিকা হিসাবে তাঁর একটি নির্দিষ্ট মাসোহারা থাকা সত্ত্বেও সেটা তিনি কোনদিনই নেন নি। জীবনের সর্বোচ্চ স্বার্থত্যাগের বিনিময়ে সেদিন সাখাওয়াত স্কুলের অস্তিত্ব টিকে যায় এবং বাঙালি মুসলিম নারীদের মাথা উঁচু করে বাঁচতে শিক্ষালাভের সুযোগ ঘটে। ২০০৪ সালে বিবিসি বাংলা ‘ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি ‘ জরিপে তিনি ষষ্ঠ নির্বাচিত হয়েছিলেন। সত্যিকার রোকেয়াকে জানতে ও তাঁর আদর্শ কাজে লাগাতে আমাদের আরো গবেষণা প্রয়োজন। আজ বাঙালি মহীয়সী এই বিষ্ময় নারীর জন্ম ও মৃত্যু দিবসে জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও দোয়া।

শেয়ার করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

আজ বাঙালি নারী জাতির জাগরণের জন্ম ও মৃত্যু দিবস

আপডেট সময় : ১২:৩০:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২২

মোঃওবাইদুল হক স্টাফ রিপোর্টার যশোর।।

মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রধুত বলা হয় রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনকে। তিনি বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের মূলমন্ত্র কাজ করেন। বেগম রোকেয়া সাক্ষাত হোসেন বাঙালি নারী জাতিকে অন্ধকার জগৎ থেকে আলোর পথ দেখান। আজ মুসলিম নারী জাতি যে আলোর পথ দেখেছেন তা একমাত্র বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে। এই আলোর পথ দেখতে পেয়েছেন শুধু তারই কারণে।তিনি যদি এই মুসলিম জাতিকে জাগ্রত করে না তুলতেন তাহলেই নারীজাতি সেই অন্ধকার আসন্ন জীবন যাপন করতে হতো। বেগম রোকেয় সাখাওয়াত হোসেন বাঙালি নারী জাতিকে আজ আলোর সন্ধান দেখেন তারই মাধ্যমে।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বাঙালি নারী জাগরণে বিশেষত মুসলিম নারী জাগরণের ক্ষেত্রে এক বিষ্ময় নারী। ১৮৮০-১৯৩২ মাত্র ৫২ বছর আয়ুষ্কালের মহীয়সী এই নারীর জন্ম-মৃত্যু উভয় ৯ ডিসেম্বর। নিজের কর্মের মাধ্যমে বাঙালি মুসলিম নারীদের কাছে আজীবন আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবেন। তাঁর ত্যাগ ও মহিমা তুলনা করার জন্য হলেও বাঙালি নারীর মধ্যে দ্বিতীয়টা খুজে পাওয়া সত্যি অসাধ্য। আঠারো বছর বয়সে প্রায় ৪০ বছর বয়সী বিপত্নীক অবাঙালি সাখাওয়াত হোসেনকে বিয়ে করেও তিনি সুখী হয়েছিলেন স্বামীর কুসংস্কার মুক্ত উদার, শিক্ষানুরাগী মনটির স্পর্শ পেয়ে । বিয়ের মাত্র দশ বছর পর ১৯০৯ সালের ৩মে তাঁর স্বামী মৃত্যুবরণ করেন। স্বামীর গুণে তিনি এতটাই মুগ্ধ ছিলেন যে স্বামীর রূপ বা যৌবনের অভাবে এক বিন্দু খেদ তাঁর মনে কখনো জন্মে নি। সাখাওয়াত সাহেব মৃত্যুর পূর্বে তাঁর সঞ্চিত ৭০(সত্তর) হাজার টাকার ১০ (দশ) হাজার টাকা স্কুল চালাবার জন্য আলাদা করে দেন। স্কুলের দশ হাজার টাকা যে ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছিল সে ব্যাংক দেউলিয়া হলে শুভাকাঙ্ক্ষী সহকর্মীরা নিরাশায় ভেঙে পড়েন। কিন্তু রোকেয়া দমে যাবার মানুষ ছিলেন না। নিজের টাকা থেকে তিনি আরো ত্রিশ হাজার টাকা স্কুলের জন্য দান করেন। স্কুল পরিচারিকা হিসাবে তাঁর একটি নির্দিষ্ট মাসোহারা থাকা সত্ত্বেও সেটা তিনি কোনদিনই নেন নি। জীবনের সর্বোচ্চ স্বার্থত্যাগের বিনিময়ে সেদিন সাখাওয়াত স্কুলের অস্তিত্ব টিকে যায় এবং বাঙালি মুসলিম নারীদের মাথা উঁচু করে বাঁচতে শিক্ষালাভের সুযোগ ঘটে। ২০০৪ সালে বিবিসি বাংলা ‘ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি ‘ জরিপে তিনি ষষ্ঠ নির্বাচিত হয়েছিলেন। সত্যিকার রোকেয়াকে জানতে ও তাঁর আদর্শ কাজে লাগাতে আমাদের আরো গবেষণা প্রয়োজন। আজ বাঙালি মহীয়সী এই বিষ্ময় নারীর জন্ম ও মৃত্যু দিবসে জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও দোয়া।

শেয়ার করুন